ইউরোপের যে সকল দেশগুলিতে থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস তাদের মধ্যে ইতালি ও স্পেনের অবস্থা সবথেকে ভয়াবহ। স্পেনে মারণ ভাইরাসের কারণে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৪২ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আতঙ্কের জেরে বন্ধ রাখা হয়েছে লা লিগা, কোপা দেল রে সহ স্পেনের সব ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু ক্রীড়া ক্ষেত্রে তারপরও রোখা সম্ভব হচ্ছে করোনার প্রকোপা। লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার আর্জেন্টাইন ফুটবলার এজিকেল গারাই। ক্লাব জানিয়েছিল গারাইসহ তাদের মোট ৫ জন করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু এবার আরও ভয়াবহ তথ্য দিল ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের ৩৫ শতাংশ ফুটবলারই করোনায় আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে।

আরও পড়ুনঃকরোনায় আক্রান্ত জুভেন্তাসের আরও এক ফুটবালর, টেস্ট রিপোর্ট পজেটিভ মাতুইদির

গত মাসে আতলান্তার বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস  লিগের ম্যাচ খেলতে ইতালির মিলানে গিয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। ওই ম্যাচটিকেই কাল হিসেবে মনে করছে ভ্যালেন্সিয়া ম্যানেজমেন্ট। কারণ কিছুদিন পরেই ইতালির ওই অঞ্চলকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর ক্লাবের নিয়ম মেনে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মানলেও, ভাইরাসের সংক্রমণ রোখা যায়নি। গত রবিবারই ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রথমে ৫ জনের আক্রান্তের কথা জানানো হয়। এছাড়াও বাকি দলকে আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এবার আরও ৪ জনের রিপোর্ট পজেটিভ বলে জানানো হয়েছে।  ক্লাবের বাকি খেলোয়াড় ও স্টাফদের আপাতত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। কারণ প্রথম পর্যায়ে রোগের উপসর্গ বোঝা যাচ্ছে না। 

আরও পড়ুনঃকরোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিদেশি ক্রিকেটারের দিকে আঙুল পাকিস্তানের, আঙুল তুললেন রামিজ

আরও পড়ুনঃকরোনায় আক্রান্ত ইউরো, বছরভরের মতোই প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দিল উয়েফা

এর আগে স্পেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু হয়েছে ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া নামের এক ২১ বছর বয়সী ফুটবল কোচের। তিনি ২০১৬ সাল থেকে মালাগা ভিত্তিক ফুটবল ক্লাব অ্যাতলেটিকো পোর্তাদা আল্টার জুনিয়র দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এরইমধ্যে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ সহ স্পেনের সব ফুটবল ক্লাবের প্লেয়ার ও সাপোর্টিং স্টাফরা  এখন কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এরইমধ্যে ভ্যালেন্সিয়ার ফুটবল দলের ৩৫ শতাংশ প্লেয়ারের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে ভীতি দ্বিগুন হয়েছে ফুটবল মহলে।