৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরাজয়ের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বামেরা। একের পর এক পরাজয় ও ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামতে নামতে গত বছর লোকসভা নির্বাচনে শূন্যে এসে দাঁড়িয়েছে বামফ্রন্ট। ভোট শতাংশ মাত্র সাত। কিন্তু তারপরও মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের কাছে দমেননি বামেরা। রাজ্য সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বাম নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কিছুকেই সমর্থন জানাননি তারা। অবশেষে একটি বিষয়ে সহমত হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। আর এই অসাধ্য সাধন করে দেখালো ফুটবল।  প্রসঙ্গ, ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলে খেলা। আগামী মরসুমে ইষ্টবেঙ্গলকে আইএসএলে খেলাতে ফেডারেশনের কাছে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদও জানালেন সুজন বাবু।

আরও পড়ুনঃপরের মরসুমে কি হতে চলেছে এটিকে-মোহনবাগানের জার্সির রং,ইঙ্গিত দিলেন ক্লাব কর্তারা

 গত ১৮ জুন মমতাকে একটি চিঠি লেখেন সুজনবাবু। শনিবার রাতে সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসে।চিঠিতে সুজনবাবু লিখছেন, “রাজ্যের তিন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং। মহামেডান এখনও আইএসএলে খেলার মতো মান অর্জন করতে না পারলেও, মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের সেই যোগ্যতা আছে। মোহনবাগান ইতিমধ্যেই এটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইএসএলে খেলা নিশ্চিত করেছে। ইস্টবেঙ্গলও যাতে আইএসএলে খেলার ছাড়পত্র পায়, তা নিশ্চিত করতে আপনি উদ্যোগী হয়েছেন। এটা খুবই আশাপ্রদ খবর।” এ প্রসঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশা এফসির কথা উল্লেখ করে সুজনবাবু বলছেন, “ওড়িশার একটি ক্লাবকে আইএসএলে খেলানোর ব্যাপারে সেখানকার সরকার যেভাবে সাহায্য করেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেভাবে ক্রীড়া পরিকাঠামো গঠন করে রাজ্যের ক্লাবগুলির পাশে দাঁড়াবে। এটাই আমাদের আশা।”

আরও পড়ুনঃফুটবল বিশ্বে বড় খবর,অবসর ভেঙে মাঠে ফিরছেন রোনাল্ডিনহো

আরও পড়ুনঃট্রাক্টর আগেই কিনেছিলেন,এবার কৃষিকাজ শুরু করলেন ধোনি,ভাইরাল ভিডিও

মোহনবাগান ক্লাব ইতিমধ্যেই এটিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আগামী মরসুমে আইএস এল খেলা পাকা করে ফেলেছে পড়শী ক্লাব মোহনবাগান। কিন্তু ইনভেস্টরের কোয়েসের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে আগানী মরসুমে এখনও কোনও স্পনসর নেই ইষ্টবেঙ্গল দলের। তবে লাল-হলুদ কর্তারা এখনও বলে চলেছেন পরের মরসুমে আইএসএলেই খেলবে ইষ্টবেঙ্গল দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ইষ্টবেঙ্গলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবার সুজন চক্রবর্তীও জানালেন সমর্থন। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির এই মরশুমেই আইএসএলে সুযোগ পাওয়া উচিত, মনে করছেন দু’জনেই। এভাবেই দুই যুযুধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এল ফুটবল। সত্যিই,"সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল"।