ইগর স্টিমাচের কোচিংয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটালো ভারত। কিংগস কাপে থাইল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্দেশীয় টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ভারত। ম্যাচের সতেরো মিনিটে করা অনিরুদ্ধ থাপার একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এর আগে এশিয়ান কাপেও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে জিতেছিল ভারত। কিংগস কাপের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে হারতে হয়েছিল সুনীলদের। 

এ দিনও প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন ক্রোয়িশান স্টিমাচ। কার্যত দ্বিতীয় সারির দল নামিয়ে দেন থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে। প্রথম একাদশে সুনীল ছেত্রী, উদান্তা সিংহ এবং গুরপ্রীত সিংহকে রাখেননি তিনি। গোলে খেলান অমরিন্দর সিংহকে। এ ছাড়াও রক্ষণে আদিল খানকে নামিয়েও চমক দেন ভারতের নতুন কোচ। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করেন বলবন্ত, অনিরুদ্ধরা। খেলার সতেরো মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক পায় ভারত। রেনিয়ার ফার্নান্ডেজের নেওয়া ফ্রিকিক থেকে থাইল্যান্ডের বক্সের সামনে থেকে বল গোলে ঠেলে দেন সুযোগ সন্ধানী অনিরুদ্ধ। এই নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে দু'টি গোল করলেন অনিরুদ্ধে। দু'টি গোলই এল থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গোল করার পাশাপাশি এ দিন অবশ্য দু'টি গোললাইন ক্লিয়ারেন্সও করেন অনিরুদ্ধ। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সমতা ফেরায় থাইল্যান্ড। যদিও সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। 

প্রথমার্ধে অবশ্য থাইল্যান্ডেরই দাপট বেশি ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতকে চেপে ধরেছিলেন থাই ফুটবলাররা। বুরিরামের প্রচণ্ড গরমে যেন কিছুটা কাহিল হয়ে পড়েছিলেন ভারতীয়রা। যদিও বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় থাইল্যান্ড। প্রতিপক্ষ চেপে ধরলেও অবশ্য সুনীল ছেত্রী বা উদান্তার মতো তারকাদের নামাননি স্টিম্যাচ। তার রণনীতি থেকে পরিষ্কার, নতুন ফুটবলারদের তৈরি করতে চাইছেন তিনি।

ভারতের কোচ হিসেবে সবমিলিয়ে স্টিমাচের শুরুটা খুব খারাপ হল না। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল তাঁর দল। স্টিমাচের এর পরের বড় পরীক্ষা আগামী জুলাই মাসে। ঘরের মাঠে সিরিয়া, তাজাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল কাপে মাঠে নামবে ভারত। জুলাই মাসের সাত তারিখ থেকে আমদাবাদে সেই টুর্নামেন্ট শুরু হবে।