কাতার ও ওমান গ্রুপে ফেভারিট। তবে তাঁর দলও চমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। গুয়াহাটিতে বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্নায়ক পর্বের ম্যাচে নামার আগে এমনটাই বলেছিলেন ভারতীয় দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমচা। তাঁর কথা যে ভুল ছিল না সেটা গুয়াহাটির ৯০ মিনিটের লড়াইতে বুঝিয়ে দিলেন সুনীলরা। ওমান ভারতের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকে দেখা গেল উল্টোটাই। দাপুটে ফুটবলেই ম্যাচ করলেন সুনীল ছেত্রীরা। শুরু থেকে ওমান ডিফেন্সের ওপর চাপ বা ১৪ মিনিটে উদান্তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসা তার প্রমাণ। ২৪ মিনিটে গোল পেয়ে গেল স্টিমাচের দল। ব্রেন্ডনের ফ্রি কিক জালে জড়িয়ে দিলেন অধিনায়ক সুনীল। গোল খেয়ে পাল্টা আক্রমণ ছাড়া আর উপায় ছিল না ওমানের। তাই ভারতকেও কিছুটা ব্যাকফুটে যেতে হল। কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেন আশিক কুরিয়নরা। একাধিক দুরন্ত সেভ করলেন গুরপ্রীতও। 

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ওমান। কিন্তু ভারতীয় ডিফেন্ডকে টলানো যায়নি সহজে। ডিফেন্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হচ্ছে দেখে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে আবার আক্রমণের রাস্তায় হাঁটলেন স্টিমাচ। সব চলছিল ঠিকই। সমস্যা তৈরি হল শেষ ১০ মিনিটে। ৮২ মিনিট ও ৮৯ মিনিটে ওমানের আল মন্ধার ভারতের আশায় জল ঢেলে দিলেন পরপর দুটি গোল করে। দ্বিতীয় গোলটি দর্শনীয়। গোটা ম্যাচে দুরন্ত খেলেও তাই শেষ দশ মিনিটে হারের মুখ দেখতে হল স্টিমাচের দলকে। 

ক্রোয়েশিয়ার কোচের ভারতীয় দল প্রথম ম্যাচেই একটা বিষয় পরিস্কার করে দিল। লড়াই না করে এবার তাঁরা মাঠ ছাড়বেন না। গ্রুপ লিগের দ্বিতীয় ম্যাচ খলেত এবার সুনীলদের উড়ে যেতে হবে কাতারে। বিশ্বকাপের আয়োজক ও বর্তমানে এশিয়া চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে নামার আগে ওমান ম্যাচ অনেকটাই আত্মবিশ্বাস দেবে গুরপ্রীতদের।