আইএসএল-এ তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। একাধারে তিনি কোচ হিসেবে দারুণ সফল, আবার বদ মেজাজের জন্যও বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ২০১৬ সালে এফসি পুনে সিটির কর্তাদের সঙ্গে ঝামেলা করে ভারত ছাড়ার পর ফের দীর্ঘ তিন বছর পর আইএসএল-এ প্রত্যাবর্তন ঘটল এই স্পেনিয় কোচের। বৃহস্পতিবার আইএসএল আগ্মী মরসুমের জন্য তাঁকেই প্রধান কোচের পদে ফেরানোর কথা ঘোষণা করল কলকাতার ক্লাব এটিকে।

এদিন, এটিকের ঘোষণার পর হাবাস জানান, এই পদে ফিরতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি জানিয়েছেন দীর্ঘদিন এটিকের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও তিনি জানতেন, একদিন না একদিন তিনি এটিকের কোচের হটসিটে ফিরবেনই। প্রথম দিনই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের আবেগের কথা। তিনি নিজেও অত্যন্ত অবাগপ্রবণ। তাই কলকাতার সমর্থকদের সঙ্গে এখনও মনে মনে আত্মিক যোগ রয়ে গিয়েছে। এটিকে ভক্তদের সমর্থন সঙ্গে নিয়ে তাঁরা একসঙ্গে মিলে মিসে কাজ করতে পারেলেই ক্লাব প্রত্যাশিত সাফল্য পাবে বলে তিনি মনে করেন।

এটিকের কোচ হিসেবেই ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল হাবাসের। ২০১৪ সালে আইএসএল-এর উদ্বোধনী বছরেই এটিকে-কে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন হাবাস। তার মধ্যে অবশ্য এফসি গোয়ার তখনকার কোচ রবার্ট পিরেসের মুখে থুতু ছিটিয়ে ২ ম্য়াচের নির্বাসন ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার পর্বও ছিল।

পরের মরসুমেও তাঁকেই কোচ হিসেবে রেখেছিল এটিকে। দলকে সেইবার ট্রফি দিতে না পারলেও সেমফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু পরের মরসুমে তাঁকে তুলে নেয় এফসি পুনে সিটি। পুনেতে অবশ্য হাবাসের অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। মাঝপথেই ক্লাবের বোর্ড অব ডিরেক্টর্স-এর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে ক্লাব ছেড়েছিলেন হাবাস।

আইএসএল তৃতীয় মরসুমে হাবাস বিদায়ের পর আরেক প্নেয় মলিনাকে কোচ করেছিল এটিকে। মলিনাও দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। কিন্তু গত দুই মরসুমে একের পর এক ব্রিটিশ কোচকে দলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এটিকে কর্তারা। তাঁরা প্রত্য়েকেই হতাশ করেছেন। গত মরসুমে কোনও ক্রমে ৬ নম্বরে থাকলেও তার আগের মরসুমে ছিল লজ্জাজনক নবম স্থানে। দুই মরসুমের হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পর ফের স্প্যানিশ স্টাইলে ফিরতে চাইছে কলকাতার দল। আর হাবাসই দলকে ফের সাফল্য এনে দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এটিকে-র মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা জানান, হাবাসকে ক্লাবের কোচের পদে ফেরাতে পেরে তিনি খুবই খুশি। দুইবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের ঐতিহ্য বহন করার তিনিই যোগ্য লোক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, কৌশল রচনা ও উদ্দীপনার দিক থেকে হাবাসের জবাব নেই।