মৃত্যুর পরও শান্তি নেই ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো মারাদোনার। তাঁর রেখে যাওয়ার সম্পত্তির মালিকানা নিয়া বিবাদ পৌছেছে এমন পর্যায়ে, যে কবর থেকে তোলা হতে পারে মারাদোনাকে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই আদালতে এমন দাবি করছেন আইনজীবী ও মারাদোনার সন্তান ও সন্তান বলে নিজেদের দাবি করছেন যারা। বরাবর ঘটনাবহুল জীবন। কিন্তু মৃত্যুর পরও যে শুধুমাত্র সম্পত্তির মালিকানার কারণে ফুটবল ইশ্বরের দেহ কবর থেকে তুলে পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে ত হতাশ করেছে বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মারাদোনা ভক্তকে। 

মারাদোনার সম্পত্তির পরিমাণ-
প্রয়াত মারাদোনার সম্পত্তির পরিমাণ ১-৪ কোটি ডলার। বিপুল সম্পত্তির নতুন মালিক কে হবেন, তা নিয়ে আসরে মারাদোনার ছেলে-মেয়েরা, প্রাক্তন স্ত্রী-বান্ধবীরা ছাড়াও লড়াইয়ে নামবেন সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহকরাও। সেইসঙ্গে বিভিন্ন দেশে তাঁর জমি, বাংলো, প্রতিষ্ঠান, গাড়ি় রয়েছে। যেসব দেশে তিনি খেলেছেন, বা কোচিং করিয়েছেন, বা অন্য কোনওভাবে যুক্ত ছিলেন, সেই আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইটালি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বেলারুশ, মেক্সিকোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এইসব সম্পত্তি।সমস্যা জটিল হয়েছে মারাদোনা কোনও উইল করে না যাওয়ায়। 

 

মারাদোনার সন্তানের সংখ্যা-
নিজের ঘটনাবহুল জীবনে একাধিক ব্যক্তি নিজেকে মারাদোনার সন্তান বলে দাবি করেছেন। তবে এখনও মারাদোনাকে ৫ জনকেই নিজের সন্তান বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪ জন আর্জেন্টিনার ও একজন ইটালির। তবে স্বীকৃত ৫ জন ছাড়াও তালিকায় রয়েছে অন্তত আরও ৪ থেকে ৫ জন। প্রথস স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর মারাদোনা তাঁর আরও ছয় সন্তানের কথা স্বীকার করেন। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন কিউবায়, দুজন আর্জেন্টিনায়। রয়েছেন প্রাক্তন স্ত্রী-বান্ধবীরাও। যারা নিজেদের মারাদোনার সন্তান বলছে। লড়াইটা শুরু হয়েছে মারাদোনা যেদিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন, সেই ২৫ নভেম্বর থেকে। গত কয়েক বছর ধরে মারাদোনার আইনজীবী হিসেবে থাকা মরিসিও দালেসান্দ্রো বলেছেন,'জানি না কারা কারা সম্পত্তির ভাগ চাইবেন, কিন্তু তালিকাটা লম্বা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।'

 

সন্তান ছাড়াও সম্পত্তির দাবিদার-
সন্তানরা ছাড়াও একাধিক ব্যক্তিত্ব রয়েছে যারা সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে একাধিক সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান, ব্যবসায়ীরা। কারন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মারাদোনার বিরুদ্ধে। তারা ফুটবল কিংবদন্তীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। জীবত অবস্থায় মারাদোনা সেই ক্ষতিপূরণ দেননি বলে অভিযোগ। তাই মৃত্যুর পর মামলকারীরা সম্পত্তির ভাগ থেকে সেই ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। 

 

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ-
এই সকল কারণেই মারাদোনার মৃত্যুর সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চরমে উঠেছে। আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তার কারণ, মারাদোনা নিদের সম্পত্তির কোনও উইল করে যাননি। ফলে শুধু সম্পত্তির মালিকানাই নয়, সম্পত্তির মোট হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। আর্জেন্তিনার আইন অনুযায়ী একজন তাঁর উইলে সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ স্ত্রী-সন্তান ছাড়া বাকিদের মধ্যে ইচ্ছেমতো ভাগ করে দিতে পারেন। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ স্ত্রী-সন্তানদের জন্য রাখতেই হবে। ফলে উইল না থাকায় সম্পত্তির লড়াইটা আরও কঠিনতর হবে। 

 

কবর থেকে তোলা হতে পারে মারাদোনার দেহ-
এই সমস্ত জটিলতার সমাধান করতে আদালতকে ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কারণ আদালতে যদি একাধিক ব্যক্তিত্ব নিজেদের মারাদোনার সন্তান বলে দাবি করেছে। কিন্তু সেরকম কোনও নথিপত্র না থাকায় অনেকেই ইতিমধ্যেই ডিএনএ টেস্টের দাবিও তুলেছে। ফলে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মারাদোনার আসল সন্তানদের সনাক্ত করতে গেলে কবর থেকে মারাদোনার দেহ তোলার পথেও যেতে পারে আদালত। কারণ আর কোনও পথ খোলা নেই।  ফলে সত্যিই চির নিদ্রাতেও শান্তি নেই ফুটবল ঈশ্বরের।