কাশ্মীরের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় দুরন্ত জয় তুলে নিল মোহনবাগান। আইলিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিয়েল কাশ্মীরকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ঘরে তুলে নিলেন বেইতিয়া- মোরান্তেরা। কাশ্মীরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলতে গিয়ে হেরে ফিরতে হয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইকে। সেখানে স্বচ্ছন্দে কাশ্মীরকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফিরছে বাগান। 

আইলিগের শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি বাগানের। গোল না পাওয়ায় ছেড়ে দিতে হয়েছে দলের বিদেশি স্ট্রাইকার চামোরা সিলভাকে। শেষ দুই ম্যাচে ট্রাউ এবং গোকুলামকে হারিয়ে অবশ্য ছন্দে ফিরছিল কিবু ভিকুনার দল। কিন্তু মোহনবাগানের বড় চিন্তা ছিল কাশ্মীরের ঠান্ডায় গিয়ে খেলা। নতুন বছরের শুরুতেই প্রিয় দলের খেলায় কিন্তু নতুন স্বপ্ন দেখতেই পারেন বাগান সমর্থকরা। তাঁর বদলে দলে আসা নতুন বিদেশি পাপা দিয়েরাকে এ দিন শুরু থেকেই নামিয়ে দিয়েছিলেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকুনা। এ দিন গোল না পেলেও পাপার উপস্থিতিতে শুরু থেকেই চাপে ছিল কাশ্মীর ডিফেন্স। যার সুযোগ নিয়ে প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শুরু থেকেই কাশ্মীরকে চেপে ধরেন বেইতিয়া, সুহেররা। 

প্রথম থেকেই কাশ্মীরকে চাপে রাখলেও প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাগান। গোল করতে পারেনি কাশ্মীরও। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেন বেইতিয়ারা। যার সুফল হিসেবে ৭১ মিনিটে গোল করে যান বাগানের মাঝমাঠের ভরসা বেইতিয়া। আশুতোষ মেহেতার লম্বা থ্রো সাইরাসের মাথা ছুঁয়ে এসেছিল বেইতিয়ার পায়ে। জোরালো শটে গোল করতে ভুল করেননি বাগানের স্প্যানিশ তারকা। এর ঠিক দু' মিনিট পরেই সুহেরের মাপা সেন্টার থেকে দূরপাল্লার শটে দুরন্ত গোল করে যান নাওরেম। তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। 

মাঝমাঠ, রক্ষণ থেকে শুরু করে আক্রমণ, সব বিভাগেই এ দিন ডেভিট রবার্টসনের দলকে টেক্কা দিয়েছে কিবু ভিকুনার ছেলেরা। কাশ্মীরের ফুটবলারদের উচ্চতার কথা মাথায় রেখে এ দিন পাসিং ফুটবলের উপর জোর দিয়েছিলেন মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ। সেই পরিকল্পনা একশো শতাংশ সফল। তার উপর এ দিন কিবু ভিকুনাকে স্বস্তি দিয়েছে মোরান্তে, সাইরাসদের রক্ষণও। বিশেষত স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মোরান্তে এ দি ম্যাসন রবার্টসন, ক্রিজো, দানিশ ফারুখদের সামনে যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন। আবার আক্রমণ শুরু করতেও বেইতিয়াদের সাহায্য করেছেন তিনি। ম্যাচের সেরাও বাছা হয় তাঁকেই। 

এই ম্যাচে জয়ের পরে পাঁচ ম্যাচে দশ পয়েন্ট হল কিবু ভিকুনার দলের। চার নম্বর থেকে একেবারে শীর্ষ স্থানে উঠে এলেন বেইতিয়ারা।