মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরও অনিশ্চত ডার্বির ভবিষ্যৎ দর্শকহীন মাঠে ডার্বি খলতে রাজি মোহনবাগান না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় ইষ্টবেঙ্গল দল ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর

দীর্ঘ বৈঠকের পরও মিলল না সমাধান। সঠিক কোনও সিদ্ধান্তে পৌছানো গেল না আইলিগের ফিরতি ডার্বির ভবিষ্যত নিয়ে। নবান্নে সভা ঘরে দুই দলের ক্লাব কর্তাদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোহনবাগানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৫ মার্চ নির্ধারিত দিনেই ক্লোজড ডোর ম্যাচ খেলতে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ওই দিন ম্যাচ না খেলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে ইষ্টবেঙ্গল। তবে করোনা ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পাকাপাকি কোনও সিদ্ধান্তে পৌছানো না গেলেও, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর কলকাতা ডার্বি পিছিয়ে যাওয়া প্রায় একপ্রকার নিশ্চিত। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনঃকরোনা আক্রান্ত আর্সেনাল কোচ মাইকেল আর্তেতা, স্থগিত ইপিএলের সব ম্যাচ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় সব খেলা আপাতত বাতিল করতে বলা হয়। আর যে সমস্ত ক্ষেত্রে খেলা বাতিল করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে সবরকমের জমায়েত উপেক্ষা করতে হবে। স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হবে না। এই নির্দেশিকা হাতে পাওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়ে দিয়েছেন, করোনার জন্য ভারতে সমস্তরকম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া টুর্নামেন্ট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেও জারি করা হচ্ছে বিধিনিষেধ। ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন হতে পারে। তবে, সেক্ষেত্রে তা করতে হবে ফাঁকা স্টেডিয়ামে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী আইলিগের ফিরতি ডার্বি যদি হয় তা করতে হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। দর্শকহীন স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের খেলতে কোনও আপত্তি না থাকলেও, বেঁকে বসে ইষ্টবেঙ্গল। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্নের সভাগৃহে বৈঠকে বসেন সব পক্ষ।

আরও পড়ুনঃঅধরা বাংলার রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন, প্রথমবারের জন্য ট্রফি জয় সৌরাষ্ট্রের

আরও পড়ুনঃআইপিএল ২০২০ আপাতত স্থগিত, করোনার থাবায় আক্রান্ত বিলিয়ন ডলার ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

নবান্নে দুই তরফের কথা শুনে ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, মার্চে কলকাতায় আয়োজিত হতে চলা আই লিগের ম্যাচগুলি পিছিয়ে দেওয়া হোক। করোনার কাঁটায় ত্রস্ত গোটা রাজ্য। এমন পরিস্থিতিতে যতটা সতর্ক থাকা সম্ভব, সেই প্রয়াসই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জন্যই তিনি চান, মার্চের পর ম্যাচগুলি আয়োজিত হোক। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে যেতে পারে রবিবারের ডার্বি। বাগান সচিব এই প্রস্তাবে প্রথমে রাজি না হলেও পরে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেন। কিন্তু এ নিয়ে চূড়ান্ত নেবেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল প্যাটেল। তাঁর সঙ্গে আলোচনার পরই ঠিক হবে, ডার্বি সত্যিই পিছিয়ে যাচ্ছে কি না। বড় ম্যাচ নিয়ে এআইএফএফ-কে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।