চলতি বছরের শেষ ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে যোগ দিতে খেলোয়াড়রা ফিরেছেন নিজ নিজ দেশে। লাতিন আমেরিকান দেশগুলি খেলবে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনপর্বের ম্যাচ। ইউরোপীয় দেশগুলি খেলবে নেশনস লিগের ম্যাচ। তবে নেশনস লিগের ম্যাচে নামার আগে প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ নিজেদের টিম কম্বিনেশন ঝালিয়ে নিতে একটি করে ফ্রেন্ডলি খেললেন। তার মধ্যে সবথেকে উত্তেজক ম্যাচ ছিল স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা এইমুহূর্তে ভালোই ছন্দে রয়েছে। তাদের মধ্যে ম্যাচটি ড্র হয় ১-১ গোলে। নেদারল্যান্ডসের জন্য চিন্তার বিষয় হলো ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার নাথান একে চোট পেয়ে ৬ মিনিটেই মাঠ ছাড়েন। তিনি কবে মাঠে ফিরতে পারবেন তা জানা নেই। অপর ম্যাচগুলিতে জার্মানি ১-০ ব্যবধানে হারায় চেক রিপাবলিককে। ইতালি ৪-০ ব্যবধানে হারায় এস্তোনিয়াকে। বেলজিয়াম ২-১ ফলে হারায় সুইটজারল্যান্ডকে। 

১৪ তারিখ রাতে একে অপরের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও পর্তুগাল। তার আগে দুই দলই তুলনামূলকভাবে বেশ দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ নামিয়েছিল। দুই কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস ও দিদিয়ের দেঁশ প্রথম দলে তেমন কোনও নামজাদা তারকাকে নামাননি। ফ্রান্স নেমেছিল ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে। পর্তুগাল মাঠে নেমেছিল অ্যান্ডোরার বিরুদ্ধে। প্রথমার্ধে জিরু এবং ভারান ছাড়া কোন নামি তারকা না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে গ্রিয়েজম্যান, কান্তে, পোগবাদের নামিয়েছিলেন দেঁশ। ঠিক একইভাবে প্রথমার্ধে তুলনামুলক কম অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের সুযোগ দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে রোনাল্ডো, বের্নার্ডো সিলভা, দিয়েগো জটা-দের মতো তারকাদের নামান পর্তুগাল কোচ। 

অ্যান্ডোরাকে ৭-০ ব্যবধানে হারায় পর্তুগাল। গোল করেন একাধিক তারকা। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও গোল পান রোনাল্ডো এবং জোয়াও ফেলিক্স। দেশের হয়ে রোনাল্ডোর ১০২ নং গোলটি আসে হেড থেকে। তার আগে রেনাটো স্যানসেজ-কে গোলের পাস বাড়িয়েছিলেন রোনাল্ডো। দেশের হয়ে ১০০ তম ম্যাচ জিতলেন তিনি। এই অনন্য নজির খুব বেশি ফুটবলারের নেই। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নামার আগে একেবারেই দুর্বল প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে প্রস্তুতি সেরে রাখলেন রোনাল্ডোরা। অপরদিকে অ্যান্ডোরার মতো দুর্বল না হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে থাকা ফিনল্যান্ডের কাছে ২-০ ফলে হারলো ফ্রান্স। এমব্যাপে না থাকলেও জিরু, ভারান, গ্রিয়েজম্যান, কান্তে, পোগবাদের মতো তারকাদের থাকাকালীন এই হার পর্তুগালের বিরুদ্ধে নামার আগে অল্প হলেও চিন্তায় রাখছে ফ্রান্স শিবিরকে। তবে পর্তুগাল চলতি ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে পাচ্ছে না অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপে-কে। নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের কাছে এটি ভালো খবর।