মার্কিন মুলুকে পুলিসি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে এখনও উত্তাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ, আন্দোলন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয়েছে ট্রাম্প প্রসাসনকে। শুধু আমেরিকা নয় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবী জুড়ে। সর্ব স্তরের ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরাও ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে। এবার  ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদের জন্য অভিনব এক পথ বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন ইউএসএসএফ।  সেই সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দ হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা তিনি  যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল আর দেখবেন না।

আরও পড়ুনঃওয়াইড বলে ফ্রি হিট সহ ৬টি নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা বিগ ব্যাশ লিগের

কিন্তু কী এমন সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন যাতে বেজায় চটে গেলেন সেদেশেরই প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার নিয়ম হল ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন যখন জাতীয় সঙ্গীত চলে তখন সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাগবি খেলার ক্ষেত্রেও পালিত হয় এই নিয়ম। বে ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে এ নিয়মের পরিবর্তন এনেছে ইউএসএসএফ। এখন থেকে ফুটবল লিগে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় হাঁটু গেড়ে বসবেন খেলোয়াড়রা। যা ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ হিসেবেই ঠিক করা হয়েছে। ২০১৭ সালে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এখন আবার ভোটাভুটির মাধ্যমে ৬০৪-১ ভোটে জিতেছে হাঁটু গেড়ে বসার সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুনঃবড় পর্দার ধোনিকে অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেলেন সুশান্ত

আরও পড়ুনঃসুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভারতীয় ক্রিকেটাররা

ইউএসএসএফের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।  রিপাবলিকান দলের ম্যাট গায়েৎজ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন,'জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাঁড়ায় না, এমন ফুটবল দলের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দল না থাকাই ভাল। জাতীয় সঙ্গীতের সময় না দাঁড়ালে আমাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলা উচিৎ নয়।' গায়েৎজের এ কথার সঙ্গে সহমত ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় উগরে দিয়েছেন তার ক্ষোভও। ট্যুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন,'আমি আর এটি (যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল) দেখছি না। শোনা যাচ্ছে এনএফএলও (রাগবি লিগ) একই পথে হাঁটছে। তারাও আমাকে (দর্শক হিসেবে) পাবে না।' একই দেশ জুড়ে আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। তারউপর দেশেরই ফুটবল সংস্থার এহেন সিদ্ধান্তকে কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছেটা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কোনও পালটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কিনা।