অবস্থার অবনতি হল কিংবদন্তি ফুটবলার প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসকরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করার।

বেশ কয়েকদিন ধরেই ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্বসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। শুক্রবার হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিনে জানান হয়েছে, এখনই ভেন্টিলেশন থেকে বার করে আনা যাবে না এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বকে। তাঁর সঙ্কট এখনও কাটেনি। তবে জ্ঞান রয়েছে প্রবাদপ্রতীম এই ফুটবলারের। নিজের পরিবারের সকলকেই চিনতে পারছেন প্রাক্তন ফুটবলার। 

আরও পড়ুন: বীভৎস নাৎসি অত্যাচারের আরও এক ছবি, খোঁজ মিলল মানুষের চামড়ার তৈরি অ্যালবামের

তিন বছর আগেই বয়স ৮০ পেরিয়েছে প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শ্বাসকষ্টের সমস্য তাঁর বহুদিনের। এবার তাঁর সঙ্গে নিউমোনিয়া সংক্রমণ হয়েছে শরীরে। বর্ষীয়াণ প্রাক্তন ফুটবলারের রয়েছে হৃদরোগের সমস্যাও। গত ২ মার্চ তাঁকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রথম থেকেই চিকিৎসকার তাঁকে সুস্থ করতে নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি স্নায়ুর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জাতীয় দলের এই প্রাক্তন তারকা। 

আরও পড়ুন: ফাঁসি থেকে বাঁচতে নির্ভয়ার দোষীদের নতুন উপায়, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল মুকেশের ভাই

ফুটবল জীবনে অনবদ্য সাফল্যের পাশাপাশি কোচ হিসেবেও দুর্দান্ত সফল পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুটবলার হিসেবে ইস্টার্ন রেলের জার্সি গায়ে খেলেছেন পিকে। ১৯৫৮ সালে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টার্ন রেলের সদস্য ছিলেন। কোনও বড় ক্লাবে না খেললেও জাতীয় দলের হয়ে একাধিক সাফল্য রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ১৯৬০-য় রোম অলিম্পিকে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের এশিয়ান গেমসেও ছিলেন ভারতীয় দলে। এর মধ্যে ১৯৬২ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতে ভারত। তবে শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, কোচ হিসেবেও তাঁর সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। তাঁর ভোকাল টনিকে অনেক ফুটবলারই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।