ফের ছোটদের কলকাতা ডার্বি ঘিরে ধুন্ধুমার ময়দান। যার জেরে জি বাংলা ফুটবল লিগে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোনবাগান অনুর্ধ্ব ১৯ ম্যাচটি ভেস্তেই গেল। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় মোহনবাগান ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল।

খেলার আকর্ষণ বাড়াতে এই ফুটল লিগের উদ্যোক্তারা ১৫ মিনিট করে চারটি ভাগে খেলাটিকে ভেঙেছিলেন। তিন চতুর্থাংশ অংশ খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেও গোল করার পারদর্শীতার অভাবে শেষ ভাগে আচমকাই পিছিয়ে পড়েছিল কোয়েস ইস্টবেঙ্গল আর এই ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরেই একাংশের লাল-হলুদ সমর্থকরা দোষ দিলেন রেফারিকে। আর তারপরই মাঠে বোতল, ইঁট, হাতের কাছে যা পেলেন ছুড়ে খেলাটা বানচাল করে দিলেন।

ইস্টবেঙ্গল এবং মোহলবাগান দুই দলই এই লিগে নিজেদের সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছিল। এদিন ফাইনাল খেলাটি হয় লাল-হলুদ মাঠেই। প্রথমার্থ অর্থাতত খেলাই কোয়ার্টারের একেবারে শেষ ভাগে একটি পেনাল্টি থেকে ঘরের দলকে ১ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন অনুর্ধ্ব ১৯ দলের তারকা ফুটবলার মণিচাঁদ সিং। এইবারই তাঁকে সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

পরের কোয়ার্টারেই খেলা শেষ করে দেওয়ার সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের পায়ে। কিন্তু দু-দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লালহলুদের ফুটবলাররা। আর তারই সুযোগ নিয়ে একেবারে শেষ চতুর্থাংশে ম্যাচে ফিরে আসে সবুজ মেরুন। প্রথমে একটি সহজ হেডে গোল করে যান কৌশিক সাঁতরা। এরপর আবার লালহলুদের অনুর্ধ্ব ১৯ গোলরক্ষক অর্ণব রায় বক্সের মধ্য়ে মোহনবাগানের শুভ ঘোষকে ফাউল করে বসেন। রেফারি পেনাল্টি দেন এবং আরও একটি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কৌশিক।

এরপরই লাল হলুদ গ্য়ালারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রেফৈারি লাইন্সম্যানদের লক্ষ্য করে ইঁট, বোতল ইত্যাদি ছোড়া শুরু হয়। তৎক্ষণাত খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। নিরাপত্তার অভাবের কারণে আর খেলা শুরু করা যায়নি। আইএফএ ও জি বৈাংলার কর্তাদের নিয়ে একটি কমনিটি গঠন করা হবে। তাঁরাই এই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইএফএ-র সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়।

এই ঘটনার জন্য জি বাংলার কর্তাদের দিকেও আঙুল তুলেছেন উৎপলবাবু। তাঁর মতে মাঠে যথেষ্ট নিরাপত্তা ছিল না। তিনি আরও জানিয়েছেন, কোনও নিরপেক্ষ মাঠে খেলাটি আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তা না করে ইস্টবেঙ্গল মাঠে খেলা দেওয়া হয়।

অবশ্যই এই লিগে ফুটবলের থেকে বিনোদনেই বেশি নজর ছিল জি বাংলার কর্তাদের। কিন্তু, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচের যে তীব্র আবেগ সেই দিকে কথা মাথায় রেখে তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত ছিল। কিন্তু সমর্থকেরও এরদায় নিতে হবে। এর আগে বড়দের ডার্বিতে নবির মাথা ফেটেছিল সমর্থকদের ছোড়া ইঁটের আঘাতে। গত বছরও ছোটদের ডার্বি ভেস্তে গিয়েছিল মোহনবাগান সমর্থকরা, লাল হলুদ সমর্থকদের বাঁশপেটা করায়। বছর-বছর এই এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কিন্তু বাংলার ফুটবলের জন্য মোটেই ভাল বিজ্ঞাপন নয়।