17

রতন নাভাল টাটার জন্ম ১৯৩৭ সালে, গুজরাতের সুরাট শহরে। শৈশবটা সপরিবারে হইহই করে কাটলেও তাঁর যখন দশ বছর বয়স, তখনই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল তাঁর বাবা-মা, নাভাল এবং সুনি টাটা-র। তারপর থেকে তিনি ও তাঁর ভাই বেড়ে উঠেছিলেন তাঁদের ঠাকুমার তত্ত্বাবধানে।

 

Subscribe to get breaking news alerts

27

রতন টাটা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁদের দুই ভাইকে গ্রীষ্মের ছুটিতে লন্ডনে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের ঠাকুমা। আর সেখানে তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল ভারতের অন্যতম সফল ব্যবসায়ীর মূল্যবোধ। রতন টাটা জানিয়েছেন, ঠাকুমাই তাঁদের শিখিয়েছিলেন, 'সবকিছুর ঊর্ধ্বে মর্যাদাবোধ', যা এখনও তাঁর মনে গেঁথে আছে।

 

37

বাবা নাভাল টাটার সঙ্গে পড়াশোনা নিয়ে মতপার্থক্যও হয়েছিল রতন টাটার। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে স্থাপত্যবিদ্যা পড়তে চেয়েছিলেন। বাবা জোর দিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যের কলেজে ইঞ্জিনিয়ার পড়ার জন্য। তখনও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর ঠাকুমা।

47

শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচার-এই স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন রতন টাটা। তারপর দু'বছর কাজ করেছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে। আর সেখানেই প্রেম এসেছিল তাঁর জীবনে।

 

57

নস্টালজিক রতন টাটা জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সেই সময়টা দুর্দান্ত ছিল। তাঁর নিজের গাড়ি ছিল, যে চাকরিটি করতেন, তাও তাঁর পছন্দের ছিল। আর সেই 'সুন্দর আবহাওয়া'তেই এক মার্কিন কন্যার প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। বিয়েরও আয়োজন হয়ে গিয়েছিল প্রায়। কিন্তু, সেই সময়ই তাঁর ঠাকুমার শরীর খারাপ হয়। দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন রতন টাটা।

67

তবে তাতে প্রেম ভাঙেনি তাঁর। প্রেয়সীর সঙ্গে কথা হয়েছিল, রতন টাটা আসার কয়েকদিন পর তিনিও ভারতে চলে আসবেন। এই দেশেই পাতবেন সংসার। ওই মহিলার পরিবারও তাতে রাজি ছিল। কিন্তু বাধ সাধে ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধ। যুদ্ধ বাঁধার পরই পতন টাটার প্রেমিকার বাবা-মা, তাঁদের মেয়ের ভারতে আসার বিষয়ে বেঁকে বসেন। আর তার জেরে সেই সুন্দর সম্পর্কও ভেঙে যায়। অবিবাহিতই থেকে যান ভারতের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী।

77

তারপর থেকে ব্যবসায়ীক ও সামাজি জীবনে প্রভূত সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ১৯৯১ সালে জেআরডি টাটার পর, টাটা গ্রুপের পঞ্চম চেয়ারম্যান হন রতন টাটা। পেয়েছেন পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ-এর মতো সম্মান। ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য জিতেছেন সিএনএন-আইবিএন ইন্ডিয়ান অফ দ্য ইয়ার খেতাব। কিন্তু, প্রেম বা বিয়ে - কোনওটাই আর করে ওঠা হয়নি।