Kanailal Dutta- স্বাধীনতার দাবিতে ২০ বছরে ফাঁসি বরণ, কানাইলালের চিতাভষ্ম কিনতে মানুষ দর হেকেছিল

| Aug 07 2022, 07:27 PM IST

Kanailal Dutta- স্বাধীনতার দাবিতে ২০ বছরে ফাঁসি বরণ, কানাইলালের চিতাভষ্ম কিনতে মানুষ দর হেকেছিল
Kanailal Dutta- স্বাধীনতার দাবিতে ২০ বছরে ফাঁসি বরণ, কানাইলালের চিতাভষ্ম কিনতে মানুষ দর হেকেছিল
Share this Article
  • FB
  • TW
  • Linkdin
  • Email

সংক্ষিপ্ত

কানাইলালের শবদেহ নিয়ে কলকাতা শহরে এক বিরাট শোকযাত্রা হয়েছিল৷ এক জনপ্লাবনের সাক্ষী থেকেছিল সেদিন কলকাতা । কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করেছিল কানাইলালের শোকযাত্রায়। তাঁরা একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে একবারের জন্য হলেও শববাহী খাটটি ছুঁতে চেয়েছিলেন। 
 

কানাইলালের (Kanailal Dutta) শবদেহ নিয়ে কলকাতা শহরে এক বিরাট শোকযাত্রা হয়েছিল৷ এক জনপ্লাবনের সাক্ষী থেকেছিল সেদিন কলকাতা । সর্বত্র ‘জয় কানাই’ ধ্বনিত হচ্ছিল সেদিন। দাহকার্যের পর কানাইলালের ‘চিতাভস্ম’ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। আধ ছটাক চিতাভস্মের জন্য কোনও কোনও অত্যুৎসাহী পাঁচ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। বিপ্লবী কানাইলালের আজ মৃত্যুদিন (Kanailal Dutta's Death Anniversary)। ১১৩ বছর আগে আজকের দিনে ফাঁসি হয় কানাইলালের একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিপ্লবী কানাইলালের (Kanailal Dutta) কিছু অজানা কথা। লিখছেন অনিরুদ্ধ সরকার 

আরও পড়ুন- Surendranath Banerjee- আজ সুরেন্দ্রনাথের জন্মদিন, কীভাবে বিস্মৃতির অতলে এই মহাত্মা

Subscribe to get breaking news alerts

(১) ১৯০৮ সালের ১০ই নভেম্বর, ব্রিটিশ জেল ওয়ার্ডেন ফাঁসির আসামি কানাইলালকে বলেছিলেন, “… এখন হাসছ‚ হেসে নাও। কাল সকালে সব হাসি মিলিয়ে যাবে মুখ থেকে।” কারণ, ফাঁসির আগের দিনও তাঁর মুখে ছিল অমলিন হাসি! পরের দিন ভোরে ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে সেই ওয়ার্ডেনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কানাইলাল (Kanailal Dutta)। জিজ্ঞাসা করেছিলেন‚ “এখন কীরকম দেখছেন আমাকে?” মাথা নিচু করেছিলেন ওয়ার্ডেন।


(২) কানাইলালের শবদেহ নিয়ে কলকাতা শহরে এক বিরাট শোকযাত্রা হয়েছিল৷ এক জনপ্লাবনের সাক্ষী থেকেছিল সেদিন কলকাতা (Kolkata)। কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করেছিল কানাইলালের শোকযাত্রায়। তাঁরা একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে একবারের জন্য হলেও শববাহী খাটটি ছুঁতে চেয়েছিলেন। সর্বত্র ‘জয় কানাই’ ধ্বনিত হচ্ছিল সেদিন। 


(৩) কেওড়াতলা শ্মশানে দাহকার্যের পর কানাইলালের (Kanailal Dutta) ‘চিতাভস্ম’ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। আধ ছটাক চিতাভস্মের জন্য কোনও কোনও অত্যুৎসাহী পাঁচ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। পুলিশের পদস্থ কর্মচারী এফ সি ড্যালির বক্তব্য ছিল, "কানাইলাল দত্তের চিতাভস্ম বলে কলকাতায় যা বিক্রি হয়েছিল, অনুমান করা হচ্ছে তা চিতাভস্মের প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অন্তত পঞ্চাশ গুণ বেশি!”

(৪) কানাইলালের (Kanailal Dutta) মৃত্যুর প্রায় পনেরো বছর পরে তাঁর শেষযাত্রা নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন মতিলাল রায় (Motilal Roy)। প্রকাশিত হয়েছিল ফরাসি উপনিবেশ চন্দরনগর (Chandannagar) থেকে। মতিলাল সেই বইয়ে লিখছেন‚ "কম্বল সরাতেই দেখা গেল শুয়ে আছেন কানাইলাল (Kanailal Dutta)। তাঁর লম্বা চুল এসে পড়েছে কপালে। দুটি অর্ধনিমীলিত চোখ দেখে মনে হছে তিনি অমৃতসুধা পানের স্বাদ লাভ করেছেন। দৃঢ় বদ্ধ ওষ্ঠ এবং দুই হাত মনে করিয়ে দিচ্ছে জীবনপণ। নিথর দেহে কোথাও একটুও মৃত্যুকষ্ট নেই।" ব্রিটিশ সরকার মতিলালের সেই বই নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।

(৫) শহীদ কানাইলাল দত্তর (Kanailal Dutta) মৃতদেহ নিয়ে শোভাযাত্রায় কলকাতার রাজপথে জনজোয়ার দেখে ভীত হয়ে পড়েছিল ব্রিটিশ সরকার। এতটাই‚ যে পরে রাজবন্দি বা প্রাণদণ্ড পাওয়া বন্দির দেহ নিয়ে শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। 

(৬) ১৮৮৮ সালের ৩০শে আগস্ট জন্ম কানাইলাল দত্তের। সেদিন ছিল ‘জন্মাষ্টমী’(Janmashtami)। বাবা মা আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘কানাইলাল’ (Kanailal Dutta)। জন্ম থেকেই অসুস্থ, দুর্বল। কিন্তু অদম্য ছিল তাঁর মনের জোর। তাঁর স্থির নির্ভীক দুই চোখ প্রমাণ করত তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। চন্দননগরের ‘ডুপ্লে স্কুলে’ পড়তেন কানাইলাল (Kanailal Dutta)।

(৭) হুগলি মহসিন কলেজে পড়ার সময় ‘যুগান্তর’ দলের সদস্য অধ্যাপক  চারুচন্দ্র রায়ের সান্নিধ্যে এসে বিপ্লবী দলে যোগ দেন কানাইলাল। অস্ত্র চালনা শিক্ষা করেন। দেশি পিস্তলে ছিল তাঁর অব্যর্থ লক্ষ্য। চারুবাবু এক এক করে টার্গেট দিতেন, আর অবলীলায় তাকে ভেদ করতেন কানাই। আর তেমনি ছিল সাহস। পুলিশের সামনে দিয়ে স্বদেশী দ্রব্য, বিপ্লবী পুস্তিকা পাচার করতেন।

(৮) কানাইলালের (Kanailal Dutta) ওপর প্রথমে অত্যাচারী  ‘কিংসফোর্ড’কে হত্যার গুরু দায়িত্ব বর্তায়। পরে তাঁর সাংগঠনিক পারদর্শিতা দেখে তাঁকে মজঃফরপুর না পাঠিয়ে কলকাতায় রেখে দেওয়া হয়েছিল দল গঠনের কাজে। 

(৯) ১৯০৮ সালের ৩০শে এপ্রিল কিংসফোর্ডকে বোমা মারার ব্যর্থ চেষ্টা করে ১ মে ধরা পড়লেন ক্ষুদিরাম (Khudiram Bose)। সেই সূত্র ধরে কলকাতার অরবিন্দ ঘোষের (Arabindo Ghosh) বাগান বাড়ি তল্লাশি করে অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষ সহ বহু বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নরেন আর কানাইলালও ছিলেন তাঁদের মধ্যে। হাজতে চললো অকথ্য অত্যাচার।

(১০)জমিদার বাড়ির ছেলে নরেন বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে সব ফাঁস করে দেয় পুলিশি অত্যাচার। জেল হাসপাতালে দেশদ্রোহী নরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে হত্যাা করে কানাই ও  সত্যেন। ১০ নভেম্বর কানাইলালের (Kanailal Dutta) ফাঁসি হয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি শহীদ হন। এর ১৩দিন পর ফাঁসি হয় সত্যেন্দ্রনাথেরও। 

আরও পড়ুন- Deshbandhu Chittaranjan : এক চিরদাতা, নিজেকে নিঃস্ব করে দিতে ভালোবাসতেন দেশবন্ধু

আরও পড়ুন- Indira Gandhi Assassination - মৃত্যু আসন্ন- তা কি বুঝতে পেরেছিলেন ইন্দিরা, শেষ ভাষণের বয়ান কেন বদলেছিলেন

 

null