সম্প্রতি ব্রিটিশ বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা 'দ্যি ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হয়েছে, অক্সফোর্ড-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা টিকার প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালের ফলাফল। এই পর্যায়ে ১০৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক-এর উপর এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল।  ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এই ট্রায়ালের ফলাফল অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবক-এর শরীরেই করোনা-রোধী শক্তিশালী অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এই টিকা। অক্সফোর্ড-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি যে টিকা সিরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করছে তার নাম কোভিশিল্ড।

ট্রায়ালের অভূতপূর্ব ফলাফল সামনে আসার পরেই, ভারতে এই টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে চাইছে এটির উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা, বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট। ভারতে এই টিকার দাম কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। কারণ করোনার চিকিৎসায় আশা জাগানো ফ্যাবিফ্লু বা রেমডেসিভির-এর দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। তাই অক্সফোর্ড-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা টিকা কি আদৌ মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের কাছে পৌঁছবে? উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। তারই উত্তর মিলল সম্প্রতি সিরাম ইনস্টিটিউট-এর সিইও আদর পুনাওয়ালার কথায়।

 

 

 

 

একটি সাক্ষাতকারে তিনি জানান, ভারতে করোনা পরীক্ষার জন্য মোটামুটি ২৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অক্সফোর্ড-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা টিকার দাম কোনওভাবেই হাজার টাকার বেশি রাখা হবে না। বরং হাজার টাকার কমেই মিলতে পারে এই টিকা। ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গাভি-র তালিকাভুক্ত দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলিতে এই টিকার দাম ২ থেকে ৩ ডলারের মধ্যেই রাখা হবে। অর্থাৎ ভারতীয় মূল্যে যা ৩০০ টাকারও কম, জানান পুনাওয়ালা। তাহলে ভারতে এই টিকার দাম কত হতে পারে? সিরাম ইনস্টিটিউট-এর সিইও জানান, মনে হয় না ভারতীয়দের এই টিকা টাকা খরচ করে কিনতে হবে। কারণ ভারত সরকার বিনামূল্যেই হয়তো দেশের নাগরিকদের এই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।