উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার সারা বর্তমান সময়ে খুব সাধারণ একটি রোগে পরিণত হয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র ভাল চিকিত্সা হল সঠিক খাদ্যাভ্যাস। ভুল ডায়েট ও জীবনযাত্রার কারণে কেবল বড়রাই নয়, শিশুরাও উচ্চ রক্তচাপের শিকার হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ কিছু সাধারণ পরিবর্তন, ডায়েট এবং ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাই আপনাদের এমন কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ভেসজ সম্পর্কে জেনে রাখা দরকার যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

১) ফরাসি ল্যাভেন্ডার- ল্যাভেন্ডার এর সুগন্ধী উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করতে সহায়ক। এর নির্যাস বা তেল বহু স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সৌন্দর্য চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়। এর জন্য আপনি ফ্রেঞ্চ ল্যাভেন্ডার বা ল্যাভেন্ডার ফুলও ব্যবহার করতে পারেন। এর পাশাপাশি আপনি এর পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি ছাড়া, আপনি ল্যাভেন্ডার এসট্রেস্ট অয়েব ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

২) তুলসী-  তুলসী গুণাবলীযুক্ত একটি ভেষজ ঔষধি। এটি বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলি দূর করতে সহায়তা করে। আপনি চা, রস বা অন্য কোনও উপায়ে তুলসী খেতে পারেন। যেমন  বিদেশে এটি পাস্তা, স্যুপ, সালাদ রান্নায় ব্যবহৃত হয়। তুলসী আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।  তুলসিতে ইউজেনল উপাদান রয়েছে যা রক্তসংক্রান্ত সমস্যা থেকে নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

৩) রসুন- আপনি যদি খালি পেটে রসুনের এক বা দুটি কোয়া প্রতিদিন খান, তবে এটি আপনার পক্ষে খুব উপকারী। এটি উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে হজম পর্যন্ত অন্যান্য অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। রসুনে নাইট্রিক অক্সাইড সমৃদ্ধ, যা আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর জন্য, আপনি প্রতিদিন রসুন চা পান করতে পারেন, এটি আপনাকে ওজন হ্রাস করতেও সহায়তা করে। এছাড়াও, আপনি খাবারেও রসুন ব্যবহার করতে পারেন। 

৪) উঙ্কারিয়া টোমেন্টোসা- উঙ্কারিয়া টোমেন্টোসা একটি ভেষজ ওষুধ যা আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই আয়ুর্বেদিক ভেষজটি রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এগুলি ছাড়াও এটি আপনার কোষের ক্যালসিয়াম কে প্রভাবিত করে  আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

৫) ফ্লেক্স সিড- ফ্লেক্স সিড বা তিসির বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও এটি উপকারী বলে বিবেচিত হয়। আপনি যদি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম ফ্লেক্স সিড বীজ ডায়েটে রাখেন তবে এটি আপনার বিপি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এগুলি ছাড়াও এটি কোলেস্টেরল কমাতে, গ্লুকোজ সহনশীলতা উন্নত করে এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে। এটি অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক পাওয়া যায় যা আপনাকে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।