বিশ্বনাথ দাস, হাওড়া: ভোটের মুখে পাগড়িকাণ্ডে চড়ছিল রাজনীতির পারদ। টুইটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশকে নিশানা করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এগারো দিন পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন বলবিন্দর সিং। আড়াই হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে জামিন দিল হাওড়া আদালত।

আরও পড়ুন: 'করোনা কমলেই লাগু হবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন', বঙ্গে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন নাড্ডা

কেন এই বলবিন্দর সিং? কেনইবা তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল? ঘটনার সূত্রপাত ৮ অক্টোবর। সেদিন সাতদফা দাবিতে নবান্ন  অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া থেকে চারটি মিছিল করে যখন নবান্নে দিকে যাচ্ছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা, তখন রাস্তায় তাঁদের পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা-ইঁটবৃষ্টি-লাঠিচার্জ-বিক্ষোভ, বাদ যায়নি কিছুই। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল সাঁতরাগাছি, হাওড়া ময়দান, হাওড়া ব্রিজ ও হেস্টিংস চত্বর। হাওড়া ময়দানে আবার মিছিলের পিছনে ধাওয়া করে  বলবিন্দর সিং-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, দলের যুব মোর্চার নেতা প্রিয়াঙ্কু পাণ্ডে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বলবিন্দর। তাই তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দাবি মানা তো দূর অস্ত, উল্টে বেআইনি আগেয়াস্ত্র রাখা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পয়লা ডিসেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বাড়ল আইআইটি ও এনআইটি-তে ভর্তির মেয়াদ

এদিকে বলবিন্দর সিং-কে গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে দফায় দফায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী ও শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। সালোয়ার স্যুট উপহার দেন বলবিন্দরের স্ত্রীকে। অবশেষে সোমবার জামিন পেলেন নবান্নে অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ ধৃত বিজেপি নেতার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। বলবিন্দরের আইনজীবীর দাবি, মামলার প্রমাণ্য নথি টুইট করে হাওড়া সিটি পুলিশ। শুনানিতে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক। সরকারি আইনজীবীর বলেন, শুনানি দু'পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে তদন্ত চলবে।