উদ্দেশ্য ছিল হাওড়া জেলাকে কোভিড-১৯ মুক্ত করতে প্রচার অভিযান। এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, তার জন্যই রবিবার হাওড়া জেলা পুলিশ ও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা একটি মিছিল বের করেছিলেন হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায়। কিন্তু সচেতনতার সেই মিছিলের ছবি-ভিডিও দেখলে, লকডাউনে ঘরে বসে পিলে চমকে যেতে পারে।

ভিড়ে ভিড়াক্কার সেই মিছিল। সামাজিক দূরত্ব টুরত্বের কথা সেই মিছিলের কেউ কোনওদিন শুনেছেন কিনা তাই নিয়েই সন্দেহ জাগবে। মিছিলের ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে সরু রাস্তা ধরে গা ঘেসাঘেসি করে পুলিশ কর্মী, ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের কর্মীরা, স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা এবং প্রচুর সাধারণ মানুষ এগিয়ে চলেছে। আর সেই মিছিল দেখতে আবার রাস্তার দুইধারে ভিড় করেছেন আরও মানুষ। মিছিলে হাঁটা এবং মিছিল দেখতে আসা মানুষদের কারোর কারোর মুখে মাস্ক আছে, কারোর কারোর গামছা, কারোর গামছা নেমে এসেছে গলায়। এখানেই শেষ নয়, ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে এই আতঙ্কের পরিবেশে রাস্তার দুইপাশের মানুষকে মিছিলের হাঁটা মানুষদের উদ্দেশ্যে ফুল ছুড়তেও দেখা যায়।

সেই টিকিয়াপাড়া, যেখানে গত সপ্তাহেই লকজাউন বিধি ভাঙা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়েছিল জনতা। পাথর বৃষ্টির মধ্যে কোনওক্রমে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। মাা ফেটেছিল এক সাবইন্সপেক্টর ও দুই কনস্টেবলের। সেই টিকিয়াপাড়াতেই এদিন সেন্ট্রাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার অলোক দাসগুপ্তের নেতৃত্বে মিছিল হল,'হাওড়া অপারেশন কোভিড জিরো' প্রচারের অংশ হিসাবে। হাওড়া জেলা, যেটি বেশ কয়েকদিন ধরেই হটস্পট বা রেডজোন হিসাবে চিহ্নিত সেই জেলাকে করোনামুক্ত করে গ্রিন জোনে পরিণত করাই এই প্রচারের লক্ষ্য।

তা করতে গিয়ে এদিন আবার যেভাবে করোনা পরবর্তী পৃথিবীর সামাজিক বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে মানুষ বিড় জমালেন রাস্তায়, সেই প্রবণতা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের মধ্যে পুলিশ ও ব়্যাফ-এর করোনা-যোদ্ধারাও ছিলেন। তাঁদের হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক থাকলেও, এই ধরণের ভিড়ের থেকে তাঁরা সংক্রামিত হয়ে পড়লে তার দায় কে নেবে?

এসিপি অলোক দাসগুপ্ত সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, 'কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রচার চালানোর জন্য আমরা 'হাওড়া অপারেশন কোভিড জিরো'র স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ওই অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছি। এরমধ্যে আরও অনেক লোক আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এবং আমরা তাঁদের বাড়িতে ফিরে যেতে বলি'।