অ্যাসিড কিংবা ভাইরাস নয়, আকাশ থেকে ঝরে পড়েছে মৌমাছির বিষ্ঠা! বাগনানে 'হলুদ বৃষ্টি'র রহস্যভেদ করলেন উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক আক্রামূল হক। তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাগনান ১ নম্বরে ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। সেদিন সকাল থেকে ঝিরঝিরে 'বৃষ্টি' নামে পাতিনান, কাজীপাড়া, মণ্ডলপাড়া-সহ বাগনানের বিস্তীর্ণ এলাকায়। আর সেই 'বৃষ্টি' যখন থামে, তখনই ঘটে বিপত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারের দাবি, এলাকার সর্বত্র হলুদ রংয়ের ছোট ছোট ফোটা দেখতে পান তাঁরা। শুধু তাই নয়, সময় যত গড়াচ্ছে, ওই ফোটাগুলি ততই শক্ত হয়ে গুঁড়ো হলুদের মতো আকার নিচ্ছে।  প্রথমে এই ঘটনাটিকে তেমন আমল দেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু শুক্রবার সকালেও একই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী, অনেক বাড়িতে আবার রান্নাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 

আরও পড়ুন: যুবকের মৃত্যুতে রহস্য, আড়াই বছর পর কবর খুঁড়ে দেহ তুলল পুলিশ

কেন এমন ঘটনা ঘটল? কেউ বলছিলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়েছে, তো কারও আশঙ্কা ছিল, করোনার মতোই নতুন কোনও ভাইরাস ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে বাগনান ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস নিজে ঘটনাস্থলে যান। নমুনা সংগ্রহ করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। কিন্তু সেই পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। শেষপর্যন্ত 'হলুদ বৃষ্টি'র রহস্যভেদ করলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিভুক্ত গবেষক ও উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক আক্রামূল হক। 

আরও পড়ুন: জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে ভয়াবহ দাবানল, ভষ্মীভূত 'তোর্সার ঘাসবন'

জানা গিয়েছে, বাগনান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিজের ল্যাবরেটরিতে তা পরীক্ষা করে দেখেন আক্রামূল। উদ্ভিদবিদ্যার ওই অধ্যাপক জানিয়েছেন, ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে পরাগও খেয়ে ফেলে মৌমাছিরা। এরপর মধু সংগ্রহ করার জন্য় বা বাসা বদলের জন্য ঝাঁকে মৌমাছি যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় উড়ে যায়, তখন তাদের বিষ্ঠার মাধ্যমে ফুলে পরাগ ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতিতে। ঠিক যেমনটা ঘটেছে বাগনানে। এটা নিছকই একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।