দক্ষিণ ভারতের বৈষ্ণব আন্দোলনের পীঠস্থান তামিলনাডুর রঙ্গনাথস্বামী মন্দির। ১৫৫ একর জুড়ে ছড়ানো এই মন্দির চত্বরে রয়েছে ৫০টি ছোট মন্দির ও ২১টি মিনার ও ৩৯টি নাটমন্দির। এই মন্দিরে লক্ষ্য করা যায় মধ্যযুগের দাক্ষিণাত্যের সভ্যতার সমস্ত নিদর্শণ। জানা গিয়েছে, খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে চতুর্থ শতকের মধ্যে গড়ে ওঠে এই মন্দির। দক্ষিণ ভারতের বৈষ্ণব আন্দোলনের পীঠস্থান এই মন্দির। 

আরও পড়ুন- চাষ করার ভিডিও দিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় ২ লক্ষ, ফলোয়ার ২.১ মিলিয়ন

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১০১৭ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের পেরুমবুদুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রামনুজাচার্য।  বৈষ্ণবধর্ম প্রচারের জন্য বর্তমানের রঙ্গনাথস্বামী মন্দির ছিল তাঁদের প্রধাণ ক্ষেত্র। জানা যায় এত বছর পরেও একাদশ শতকের এই বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রধান সন্ত রামানুজাচার্যকে সশরীরে দেখতে পাওয়া যায় এই মন্দিরে। প্রায় হাজার বছর ধরে এই মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে রামানুজাচার্যের পবিত্র দেহ। এই দেহকেই মূর্তি জ্ঞানে পুজো করেন সকল ভক্তরা। 

আরও পড়ুন- অমর্ত্য সেনের পর এবার অভিজিৎ, অর্থনীতিতে নোবেল আরও এক বাঙালির

মন্দির প্রতিষ্ঠা করার পর শ্রী রঙ্গনাথস্বামী ছিলেন মন্দিরের প্রধাণ পুরোহিত। স্বয়ং বিষ্ণুর নির্দেশেই রামানুজাচার্যের দেহকে সংরক্ষণ করে মূর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ভক্তরা। রামানুজাচার্যের দেহ ত্যাগের সময় হলে ভক্তরা তাঁকে অনুরোধ করেন আরও কয়েকদিন পর দেহত্যাগ করতে। শেষ অবধি ভক্তদের কথা রাখতেই দেহ ত্যাগ করলেও কোনও রাসায়নিক ছাড়াই অবিকৃত থেকে যায় রামানুজাচার্যের দেহ। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই চলে আসছে এই নিয়ম। বছরে দুবার বিশেষ তিথি মেনে কর্পূর ও কুমকুম লেপন করা হয় রামানুজাচার্যের দেহে। আজও এই ঘটনা অবাক করে সকলকে।