চণ্ডীগড়ের রাজ্য় কনসিউমার ডিসপিউট সেল, লুফথানসা এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে ও একটি ট্য়াভেল এজেন্সিকে ৭০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল এক মহিলা যাত্রীকে। বছর ষাটেকের ওই যাত্রীকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের একটি বিমানবন্দরে একরাতের জন্য় লকআপে কাটাতে হয়েছিল, বিমানসংস্থার গাফিলতির জন্য়ে, পর্যবেক্ষণ কনজিউমার সেলের।

 

চণ্ডীগড়ের ওই মহিলার নাম হরশম কাউর ধালিওয়াল। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই কনসিউমার রিড্রেসাল সেল এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। ওই সেলের মতে, যদি বিনা অপরাধে একজন মহিলাকে আটক বা ডিটেন করা হয়, তাহলে তা অপমানেরই শামিল। এবং এর ফলে ওই মহিলার সম্মানহানি হয়। বস্তুত, কোনও দোষ ছাড়াই, শুধু দুই এয়ারলাইন্সের অবহেলার কারণে,  কাউকে যদি গ্রেফতারি বা আটক করা হয়, তাহলে তার জন্য় দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করা উচিত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।

 

চণ্ডীগড়ের ওই মহিলা সূর্য ট্রাভেলসের মাধ্য়মে একটি ট্রিপ বুক করেছিলেন। নয়া দিল্লি থেকে জুরিখ হয়ে   সানফ্রানসিসকো যাওয়ার জন্য় তিনি একটি টিকিট বুক করেছিলেন। একইভাবে, সানফ্রানসিসকো থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে নয়া দিল্লিতে আসার জন্য়ও রিটার্ন টিকিট বুক করেছিলেন। ধালিওয়ালের অভিযোগ, ২০১৮-র মার্চের ১৯ তারিখে তাঁর ফিরে আসার সময়ে, তিনি একটি লুফথানসা বিমানে ওঠেন সানফ্রানসিসকো থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট যাবেন বলে। তাঁকে একটি বোর্ডিং পাস ইস্য়ু করা হয়। তিনি তখন বিমানে উঠে বসেন। কিন্তু সেই বিমান তিনঘণ্টা পরেও ছাড়েনি। তাঁকে তখন সেখান থেকে নেমে পড়তে বলা হয়। বলা হয় তাঁর জিনিসপত্র ফেরত নিয়ে নিতে। ধালিওয়াল তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন যে, বিমান থেকে নামবার সময়ে তাঁকে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়নি। যার ফলে তাঁর পক্ষে জিনিসপত্র খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও তিনি ভাগ্য়ক্রমে তাঁর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন আর সেই কারণেই ব্য়াগপত্র জোগাড় করতে পেরেছিলেন। মহিলার অভিযোগ, লুফথানসা এয়ারলাইনস, তাঁর সঙ্গে কথা না-বলেই তাঁর রুট পরিবর্তন করেছিল। তাঁর হাতে তখন একটি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই  বিমানটির লন্ডন হয়ে ভারতে আসার কথা ছিল।

 

যদিও সানফ্রানসিসকো থেকে হিথরো বিমানবন্দরে আসার বিমান দেরিতে পৌঁছয়। তা করতে করতে সংযোগকারী বিমানটি ছেড়ে চলে যায়। তাঁকে তখন অন্য় একটি বিমানে জায়গা দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও চলতে থাকে হয়রানি। আবারও সংযোগকারী কোনও বিমানটি পাওয়া যায় না।

 

ধালিওয়াল অভিযোগ করেন, তিনি তখন ভিসা ছাড়াই বিমানবন্দরে আটকে পড়েন। তাঁর কথায়, একটা ট্রানজিট ভিসার ব্য়বস্থা করা উচিত ছিল লুফথানসা বিমানবন্দর আর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে, যারা তাঁর অনুমতি না-নিয়েই রুট বদলেছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। যার ফলে তাঁকে অবৈধভাবে আটক করে এয়ারপোর্ট পুলিশ। একরাত তাঁকে লকআপে থাকতে হয় এবং তাঁকে অপরাধীর চোখে দেখা হয়!

 

শুধুমাত্র দুই বিমান সংস্থার গাফিলতিতেই যে একজন মহিলাকে এভাবে একরাত লকআপে থাকতে হল, তা কনজিউমার সেলের রায়ে পরিষ্কার। তাই ওই দুই বিমানসংস্থাকে তাদের নির্দেশ, মহিলাকে ৭০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর তা দেবে ওই দুই বিমান সংস্থা আর সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি।