এদেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনেকেই তবলিগি জামাতের প্রধান  মৌলানা সাদ কান্দালভির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন। এবার সেই সাদের পরিবারেই হানা দিল মারণ ভাইরাস। জানা যাচ্ছে তবলিগি জামাতের প্রধানের দুই আত্মীয়ের কোভিড টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তরা দুজনরেই উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার বাসিন্দা।

এদিকে সাদের পরিবারের দুই সদস্য কোভিড ১৯ আক্রান্ত হতেই পরিবারের আরও ৮ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়েছে। সংক্রমণের শিকার দু'জনেই কান্দালভির শ্বশুর বাড়ির তরফে আত্মীয়। এরা দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগি জামাতের মারকাজেও অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্র জানা যাচ্ছে। 


চিনে নিন বাস চালকের স্কুল ছুট কন্যাকে, যাঁর হাত ধরে বিশ্বে আবিষ্কার হয়েছিল করোনাভাইরাসের
লকডাউনের মাঝে জীবনযুদ্ধ, অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে কোলে নিয়ে ছুটছেন ছেলে, ভাইরাল হল ভিডিও
সবার দেহে পড়ছে না সমান প্রভাব, গবেষণায় জেরবার বিজ্ঞানীদের করোনার রহস্য জানতে এখন ভরসা ডিএনএ

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই আত্মীয় সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরেন। মারকাজে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁদের কান্দালভির আরও দুই আত্মীয়র সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়েছিল। তবলিগি জামাত নেতার ২ আত্মীয়ের সংস্পর্শে আর কারা এসেছিলেন এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

এদিকে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে তবলিগি প্রধানের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। সম্প্রতি তবলিগ জামাতের  আয়োজক মৌলানা সাদের কোয়ারেন্টাইন পিরিওড শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চও  কড়া পদক্ষেপ নিয়ে তাবলিগ জামাতের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা করার মামলা দায়ের করেছে। মৌলানা সাদের বিরুদ্ধেও আইপিসি ধারা ৩০৪ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মৌলানা সাদের কারণে তবলিগি জামাতের সদস্যেরা দেশে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে আর তাঁদের মধ্যে করোনার লক্ষণ পাওয়ার পর অন্যদের মধ্যেও করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের শিকার হয়েছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতেও কোভিড ১৯ রোগের শিকার দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এদেশে আক্রান্তদের অনেকের সঙ্গেই তবলিগি জামাতের যোগ পাওয়া গিয়েছে।