একজন দুইজন নয়, একসঙ্গে ৪৫০ জন ডাক্তার গণ-আত্মহত্যা করতে চাইলেন। এই মর্মে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের কাছেও। দিল্লির হিন্দু রাও হাসপাতালের ঘটনা।

জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই বেতনের সমস্যায় ভুগছেন এই হাসপাতালের ডাক্তাররা। তাঁদের দাবি বছরের অন্তত দু-তিনবার তাঁদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। তখন দিল্লির নগর নিগম বা সরকারের কাছে গিয়ে হত্যে দিতে হয়। এই ভাবেই চলে আসছে। কিন্তু এই অবস্থাটার অবসান চেয়ে সোমবার থেকে তাঁরা ধর্মঘটের পথে পা বাড়িয়েছেন।

সাধারণত, ডাক্তাররা বেশ বড় অঙ্কের অর্থ রোজগার করে থাকেন। কিন্তু হিন্দু রাও হাসপাতালের ডাক্তারদের দাবি, তাঁদের বেতন বন্ধ হতে হতে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে বর্তমানে তাঁরা প্রত্যেকেই তীব্র আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। এমনকী পরিবার প্রতিপালনও তাঁদের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের সামনে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও গতি নেই বলে দাবি তাঁদের। আর এই কারণেই সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দকে ওই ৪৫০ জন ডাক্তার চিঠি লিখে আইনসঙ্গতভাবে আত্মহত্যা করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, ডাক্তারদের দাবি তাঁদের আন্দোলনকেও ছল-চাতুরিতে ভেস্তে দিতে সক্রিয় হয়েছে দিল্লি নগর নিগম। তাঁরা জানিয়েছেন, হিন্দু রাও হাসপাতালে শুধু দিল্লির বাসিন্দারাই নন, শহরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা আসেন চিকিৎসা করাতে। ডাক্তারদের ধর্মঘটের কারণে যাতে তাঁরা সমস্য়ায় না পড়েন, সেই কথা মাথায় রেখে ডাক্তারদের সংগঠন সোমবার হাসপাতালের বাইরেই আউটডোর খুলে বসেছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ জোর-জবরদস্তি করে তা তুলে দেয়। তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যাতে হিংসাত্মক হয়ে ওঠে তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নানাভাবে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আর এই সবটাই পুলিশ করছে উত্তর দিল্লি নগর নিগমের কর্তাদের অঙ্গুলি হেলনে, এমনটাই অভিযোগ ডাক্তারদের।