উত্তরপ্রদেশকে ডিজিটাল ও AI হাব বানাতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে যোগী সরকার। নয়ডা, লখনউ, কানপুর-সহ রাজ্যের ৮টি শহরে তৈরি হবে ডেটা সেন্টার পার্ক। এর জন্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে এবং প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লখনউ। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজ্যকে দেশের অন্যতম ডিজিটাল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত গতিতে কাজ করছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই রাজ্যে ৮টি বড় ডেটা সেন্টার পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ টানা এবং নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ডেটা সেন্টার পার্কগুলি তৈরি হলে উত্তরপ্রদেশ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে AI, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থাগুলির জন্য এটি একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রধান শহরগুলিতে তৈরি হবে ডেটা সেন্টার পার্ক
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ডেটা সেন্টার পার্কগুলি রাজ্যের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে তৈরি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে Noida, Greater Noida, Yamuna Expressway অঞ্চল, Ghaziabad, Lucknow, Kanpur, Varanasi এবং Agra। এর মধ্যে নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা এবং যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে অঞ্চলে জমি চিহ্নিতকরণ ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। কিছু কোম্পানিকে জমিও দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য শহরগুলিতে জমি খোঁজা এবং মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিনিয়োগে আগ্রহ
ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগের জন্য HCL Technologies, Adani Group, NTT Data, Yotta Infrastructure, Sterlite Technologies এবং Sify Technologies-এর মতো অনেক বড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছে। এই সংস্থাগুলির তরফে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। অনেক প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই মউ (MoU) সই হয়ে গিয়েছে এবং কিছু প্রকল্প নির্মাণের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় বিশেষ নজর
ডেটা সেন্টার চালাতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে রাজ্য সরকার প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা করেছে। এর জন্য নতুন সাব-স্টেশন তৈরি করা হবে এবং ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা হবে। ডেটা সেন্টার পার্কগুলিতে যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়, তাও নিশ্চিত করা হবে। সরকার পরিবেশবান্ধব উপায়ে ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারেও উৎসাহ দিচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম
বিনিয়োগকারীদের টানতে রাজ্য সরকার ডেটা সেন্টার নীতির আওতায় বেশ কিছু সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূলধনী ভর্তুকি, বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড়, স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় এবং পরিকাঠামো তৈরিতে সরকারি সাহায্য। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত এবং স্বচ্ছ অনুমোদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একটি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমও চালু করা হয়েছে, যাতে প্রকল্পগুলির অনুমোদন পেতে সুবিধা হয়।
৫০ হাজারের বেশি চাকরির সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
এই ৮টি ডেটা সেন্টার পার্ক তৈরি হলে রাজ্যে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ চাকরি এবং বিপুল সংখ্যক পরোক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে। সরকারের আশা, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলির বেশিরভাগ ধাপ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রথম সারির রাজ্যগুলির মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে।


