এবার কুকুরে কামড়ালেই দিতে হবে মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ! সুপ্রিম কোর্ট দিল কড়া নির্দেশ
এবার কুকুরে কামড়ালেই দিতে হবে মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ! সুপ্রিম কোর্ট দিল কড়া নির্দেশ

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান পথকুকুরের কামড়ের ঘটনা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সাম্প্রতিক শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুরের কামড়ে কেউ গুরুতর আহত হলে বা প্রাণ হারালে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে যাঁরা নিয়মিত পথকুকুরকে খাবার খাওয়ান, তাঁদের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত।
বিচারপতিরা বলেন, বহু রাজ্য ও পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। আদালতের মতে, Animal Birth Control (ABC) Rules— অর্থাৎ কুকুরের নির্বীজকরণ, টিকাকরণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার নিয়ম ঠিকভাবে কার্যকর হয়নি বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যদি প্রশাসনের গাফিলতিতে পথকুকুরের আক্রমণে কেউ মারা যায় বা গুরুতর জখম হয়, তবে রাজ্য সরকার দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। সে ক্ষেত্রে সরকারকে ভুক্তভোগী পরিবারকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এই মামলায় আদালত শুধু প্রশাসনের দিকেই আঙুল তোলেনি। বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা নিয়মিত পথকুকুরকে খাবার খাওয়ান, তাঁরা কি তাদের দায়িত্ব নিচ্ছেন? তাঁরা কি কুকুরগুলিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখছেন, না কি প্রকাশ্য রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছেন?
আদালতের স্পষ্ট মত, ভালোবাসা দেখিয়ে খাবার খাওয়ালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। যদি সেই কুকুর কাউকে কামড়ায় বা বিপদ ঘটায়, তবে খাবার দেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুরকে খাবার খাওয়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়— এমন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা পশুপ্রেমী, তাঁদের উচিত কুকুরদের নিরাপদে রাখা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং আইন মেনে চলা।
দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পথকুকুরের কামড়ে আহত হন। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। আদালতের মতে, মানবিকতা ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।
ABC Rules কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। জননিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে স্পষ্ট, পথকুকুর সমস্যা আর অবহেলার জায়গায় নেই। প্রশাসন, পশুপ্রেমী এবং সাধারণ নাগরিক— সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, তবেই এই জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

