রাজস্থানে এক IAS ও IPS দম্পতিকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে পরিবারের সদস্যদের নামে মোট ৪০টি ভিলা ও কটেজ কেনেন ওই আমলা ও তাঁর পরিবার। পরে সেই সম্পত্তিই আবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়।
রাজস্থানে এক IAS ও IPS দম্পতিকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে পরিবারের সদস্যদের নামে মোট ৪০টি ভিলা ও কটেজ কেনেন ওই আমলা ও তাঁর পরিবার। পরে সেই সম্পত্তিই আবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়। বছরে ভাড়া বাবদ আয় হওয়ার কথা প্রায় ১.৮ কোটি টাকা! ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে রাজস্থানের দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)। ইতিমধ্যেই ওই IAS আধিকারিক এবং তাঁর IPS স্ত্রীকে ওয়েটিং ফর পোস্টিং অর্ডার (APO) করা হয়েছে।
কারা এই IAS-IPS দম্পতি?
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন IAS আধিকারিক শিখর আগরওয়াল (Shikhar Agrawal) এবং তাঁর স্ত্রী, সিনিয়র IPS আধিকারিক প্রশাখা মাথুর (Prashakha Mathur)। শিখর আগরওয়াল রাজস্থানের শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে দায়িত্ব সামলেছেন। এর আগে তিনি উদয়পুরের জেলাশাসক এবং রাজস্থান দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী প্রশাখা মাথুরও রাজস্থান পুলিশের একজন সিনিয়র IPS আধিকারিক।
কীভাবে কেনা হয়েছিল ৪০টি ভিলা?
ACB-র প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উদয়পুরের বুজহদা এলাকায় আনান্তা রিসর্টের ২০টি কটেজ কেনেন ওই পরিবারের সদস্যরা। এরপর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আলওয়ারের আজবগড়ে আনান্তা রিসর্টের আরও ২০টি ভিলা কেনা হয়। দুটি রিসর্ট মিলিয়ে মোট ৪০টি সম্পত্তি কেনার জন্য খরচ হয়েছিল ৬.১৬ কোটি টাকা। ACB-র দাবি, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে এই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বছরে ১.৮ কোটি টাকা ভাড়া!
এই ঘটনাতেই তদন্তকারীদের নজর আরও বেশি করে পড়েছে। কারণ, যে সংস্থার কাছ থেকে ভিলাগুলি কেনা হয়েছিল, সেই সংস্থাকেই আবার সম্পত্তিগুলি লিজে দেওয়া হয়। উদয়পুরের ২০টি কটেজ থেকে বছরে ভাড়া আসার কথা ৮০ লক্ষ টাকা। আলওয়ারের ২০টি ভিলা থেকে বছরে ভাড়া আসার কথা ১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ৪০টি সম্পত্তি থেকে বছরে মোট ১.৮ কোটি টাকা ভাড়া পাওয়ার কথা। যে সংস্থার কাছে সম্পত্তিগুলি লিজ দেওয়া হয়েছিল, সেটি হল Goyal Fashions Private Limited। এই সংস্থা আনান্তা ব্র্যান্ডের অধীনে হোটেল ও রিসর্ট পরিচালনা করে।
কী কী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে?
ACB-র প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি পদে থাকাকালীন শিখর আগরওয়াল ওই সংস্থাকে একাধিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে-রিসর্ট নির্মাণের নিয়মে বিশেষ ছাড় পাইয়ে দেওয়া। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া। সংস্থাকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা বা কনসেশনাল প্যাকেজ পাইয়ে দেওয়া। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাজারদরের তুলনায় কম দামে সম্পত্তি কেনা। ACB-র দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। সেই দিনই আলওয়ারের ২০টি ভিলা কেনার রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
APO করা হল IAS ও IPS আধিকারিককে
অভিযোগ সামনে আসার পর ২৮ অক্টোবর শিখর আগরওয়ালকে APO করা হয়। এরপর ৩১ অক্টোবর তাঁর স্ত্রী প্রশাখা মাথুরকেও APO করে রাজস্থান সরকার। ACB-র প্রাথমিক অনুসন্ধানে সরকারি কোষাগারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এবং আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি অর্জনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি এখনও তদন্তাধীন অভিযোগ। চূড়ান্ত তদন্তের আগে কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।




