তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল জেলার কন্নি গ্রামের বুস্সা কৃষ্ণ। এই রিয়েল এস্টেট ব্রোকার বা জমি-বাড়ির দালালের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই হলেন শিব ঠাকুর। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথমবার ভারতে আসছেন। তার আগে তাঁর এই ভারতীয় অন্ধ ভক্ত নিজের ছোট্ট বাড়িটিকে প্রায় ট্রাম্পের মন্দির বানিয়ে ফেলেছেন।

এই সবটাই শুরু হয়েছিল আজ থেকে বছর চারেক আগে। অনেকেই যেমন স্বপ্নে দেব-দেবীর কাছ থেকে দিব্যাদেশ পান, সেইরকম ট্রাম্প স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন বুস্সা কৃষ্ণ-কে। তারপর থেকেই নাকি তার কারবার দারুণভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। আর কৃষ্ণও সব দেব দেবী ভুলে আশ্রয় নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদতলে। কৃষ্ণের নিজের কথায় তাঁর ভালোবাসা পূজায় পরিণত হয়। আর ট্রাম্পের পূজো করে তিনি দারুণ আনন্দ পান।

ছোট্ট একটি বাড়িতে তিনি একাই থাকেন। ট্রাম্পের নিত্যপূজার জন্য তিনি তাঁর সেই বাড়ির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি পূর্ণ দৈর্ঘের মূর্তি বসিয়েছেন। তাকেই রোজ দুধ-গঙ্গাজল দিয়ে চান করিয়ে, ধূপ-ধুনো, পুল বেল-পাতা দিয়ে পুজো করেন বুস্সা কৃষ্ণ। আর তার ঘরের দেওয়াল জুড়ে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম লেখা।

এর জন্য তাকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বিস্তর। পরিবারের অন্যান্য লোকজনই বুস্সা কৃষ্ণের এই ট্রাম্প পূজো ভালো চোখে নেয়নি। পরিবারের অনেক সদস্যই তাঁকে বলেছেন, এভাবে তিনি তাঁদের পরিবারের নাম ডোবাচ্ছেন। সমাজে তাঁরা মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছেন। কিন্তু এইসব বলে বুস্সা কৃষ্ণ-কে দমানো যায়নি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যান্যদের কাছে শিবের আরাধনা যেমন, তাঁর কাছে ট্রাম্পের পূজোও ঠিক সেইরকম গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে ট্রাম্পের ভক্তের সংখ্যা অবশ্য নেহাত কম নয়। ডানপন্থী সংগঠন হিন্দু সেনাই যেমন অত্যন্ত ট্রাম্প ভক্ত। কারণ ট্রাম্প খোলাখুলি ইসলাম বিরোধী। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনের দিন হিন্দু সেনার কয়েকজন সদস্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি ছবিতে কেক কেটে খাইয়েওছিলেন। তবে তার কয়েকদিন পরই অবশ্য এই ট্রাম্পেরই প্রশাসন হিন্দু সেনা-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তকমা দিয়েছিল।