সাবধান, খুব সাবধান। বাইরে বের হলে মাঝেমাঝে মাথাটা তুলে একটু দেখে নেবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে চিনের রকেটের পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনার কথায় এমনই বলা হয়েছে। কারণ সম্প্রতি চিন মহাকাশে যে সবচেয়ে বড় রকেটটা উৎপক্ষেণ করেছে, সেই লং মার্চ 5B-রকেটের ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীর ওপরেই আছড়ে পড়তে চলেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়ার পর এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ দুনিয়ার যে কোনও স্থানেই পড়তে পারে। ঠিক কতটা বড় এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ। জানা গিয়েছে ২৩ টনের বড় একটা টুকরো আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীর বুকে।

আরও পড়ুন: এক ডোজেই কামাল, নতুন রুশ টিকা তৈরি হবে ভারতেই - করোনাধ্বস্ত দেশে আনতে পারে বিপ্লব

গত ২৯শে এপ্রিল চিনের ওয়েনচ্যাং মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভ-বি রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মহাকাশে এই রকেটের ধবংসাবশেষ এখন পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে। এবার এটি বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ঢুকছে। যার মানে হল, এটি পৃথিবীর চারিদিকে বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নীচের দিকে নেমে আসছে। সাধারণত বায়ুমণ্ডলে প্রবল গতিতে প্রবেশের সময়ে ঘর্ষণে তা জ্বলে ওঠে। কিন্তু যেহেতু এটি আকারে অনেকটা বড় তাই সেটি সম্পূর্ণভাবে জ্বলে নিঃশেষ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৩২ বছর ধরে ছোট্ট দ্বীপে একাই জীবন কাটানো ব্যক্তি ফিরলেন লোকালয়ে

রকেটের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস কমান্ড। খুব সম্ভবত আগামিকাল, ৮ মে এই রকেটটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। আর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই ধাক্কা খেয়ে ভস্মীভূত হয়ে যাবে আর তখনই সমস্ত ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে দিতে পারে৷ তবে এমনও হতে পারে শনিবার নয় ,এটি হয়তো রবিবার আছড়ে পড়বে। গত বছর যে লং মার্চ রকেটটি আটলান্টিক মহাসাগরে ক্রশ ল্যান্ডিং করেছিল। এবারও মহাসাগরে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু সেটা যদি না হয়ে স্থলে জনঘন বসতিপূর্ণ এলাকাতে আছড়ে পড়ে তাহলে! বিশেষজ্ঞরা এখনও কিছুই বলতে পারছেন না। তবে এই বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মত কিছু নেই বলে জানানো হয়েছে।

হিসেব করে দেখা গিয়েছে চিনের এই রকেটের ধ্বংসাবশেষ নিউ ইয়র্কেও আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা অল্প হলেও আছে। এছাড়াও চিনের রাজধানী বেজিং, বা স্পেনের মাদ্রিদ কিংবা দক্ষিণ চিলিতেও আছড়ে পড়তে পারে এই মহাকাশ জঞ্জাল। প্রশ্নের মুখে পড়েছে চিনের স্পেস প্রোগাম। রকেট পাঠানোর আগে কেন ধ্বংসাবশেষের বিষয়টি ভেবে দেখছে না চিন সে প্রশ্ন উঠছে। চিনের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতি এড়ানো কঠিন।