দিল্লিতে 'যন্তর মন্তর ২.০' বিক্ষোভের আগে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মী অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, ১৩ কোটি ভোট মুছে ফেলার দায়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে। এর জন্য তিনি জেলে যেতেও প্রস্তুত।

শনিবার নয়াদিল্লিতে 'যন্তর মন্তর ২.০' বিক্ষোভ। আর তার আগেই মুম্বই থেকে দিল্লি রওনা দেওয়ার সময় কড়া বার্তা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মী অভিজিৎ দিপকে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট মুছে ফেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। আর এই দাবিতে তিনি জেলে যেতেও প্রস্তুত। অভিজিৎ বলেন, জেলের ভয় দেখিয়ে তাঁকে এই লড়াই থেকে সরানো যাবে না। তিনি হাসিমুখে জেলে যেতে রাজি।

'জেলে যেতে প্রস্তুত':অভিজিৎ দিপকে

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "আপনারা যদি ভাবেন জেলের ভয় দেখিয়ে আমাদের থামিয়ে দেবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমরা জেলে যেতে তৈরি। আপনারা চাইলে আমাদের বন্দি করতে পারেন। এনএসএ (NSA), ইউএপিএ (UAPA) বা যা খুশি আইন চাপিয়ে দিন, কিন্তু দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে আমাদের এই লড়াই চলবেই।" তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব। কারণ ১৩ কোটির বেশি ভোট মুছে ফেলা হয়েছে। মানুষের থেকে তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। ভারতের গণতন্ত্রকে আমাদের বাঁচাতেই হবে।" দিল্লিতে যে কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করতেই গোটা শহর অচল করে দেওয়া হয়েছে।

অভিজিতের নিশানায় নরেন্দ্র মোদী

CJP প্রধানের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। অভিজিৎ বলেন, "আমি বুঝতেই পারছি না, শুধুমাত্র একজন মানুষকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদী কীভাবে গোটা রাজধানী বন্ধ করে দিতে পারেন! আপনারা ট্রেন বন্ধ করেছেন, মেট্রো থামিয়ে দিয়েছেন, সব রাস্তা আটকে দিয়েছেন, এমনকী ইন্টারনেটও বন্ধ করে দিয়েছেন।"

দুর্গে পরিণত দিল্লি

এদিকে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে গোটা দিল্লি জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩৫ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।

আজ যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে জবাবদিহি চাইতেই এই জমায়েত। দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি ঠিকই, কিন্তু তা সত্ত্বেও বিপুল জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে সিজেপি লিখেছে, "১০ অক্টোবর। যন্তর মন্তর ২.০। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আমরা ফের একজোট হচ্ছি। হাজার হাজার মানুষ আসবেন বলে আশা করছি..."। এই ঘোষণার পরেই দিল্লি পুলিশ কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, যেখানেই কেউ বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করবে, সেখান থেকেই তাঁকে আটক করতে হবে। তবে এই বিক্ষোভ সামলাতে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (CAPF) জওয়ানদের হাতে কোনও অস্ত্র না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিউটি বণ্টন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিরেক্টরেটদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সতর্ক দিল্লি পুলিশ

ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বিক্ষোভের সময় যেমন ব্যবস্থা ছিল, এবার তার চেয়ে ছবিটা একটু আলাদা। পুলিশকে লাঠি ও ব্যাটন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশকর্মীদের যাতে কোনও নেতিবাচক ভিডিও ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তাই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনওরকম বচসায় না জড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

আটক হওয়া বিক্ষোভকারীদের রাখার জন্য ছ'টি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেগুলি হল— ছত্রশাল স্টেডিয়াম, রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম, যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সুরজমল স্টেডিয়াম, দৌলতপুরের কমিউনিটি সেন্টার এবং পান্ড্রাওয়ালের কমিউনিটি সেন্টার।