ইন্ডিয়া জোটের নেতারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি, বরং মন দিয়ে শুনেছেন।

ইন্ডিয়া জোটের নেতারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। পুলিশ এদিন সংসদ ভবন থেকে বিজয় চক পর্যন্ত বিরোধী সাংসদদের প্রতিবাদ মিছিল আটকে দেয়। এরপরই শীর্ষ নেতারা সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং ওমর আবদুল্লার মতো প্রথম সারির নেতারা এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। নেতারা তাঁদের দেওয়া স্মারকলিপিতে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার একসঙ্গে মিলে 'ভোট চুরি'র ষড়যন্ত্র করেছেন।

ভোট চুরির অভিযোগ ওড়াননি রাষ্ট্রপতি

রাহুল গান্ধী বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া রীতিমতো অবাক করার মতো ছিল। তিনি বিরোধীদের তোলা ভোট চুরির অভিযোগ বা যুক্তিগুলো একবারের জন্যও অস্বীকার করেননি। বরং তিনি সব কথা খুব মন দিয়ে শুনেছেন। মল্লিকার্জুন খাড়গেও জানান, রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের কথা মন দিয়ে শোনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। জোট নেতারা রাষ্ট্রপতিকে সাফ জানিয়েছেন, দেশে ইভিএম (EVM) পুরোপুরি বাতিল করে ব্যালট পেপারে ফিরতে হবে। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরা এই বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করার আর্জি জানিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রী রাষ্ট্রপতির ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বলেও জানান।

ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন কমিশনের এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও জোরদার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীরা আগামী সোমবার দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন। তাঁরা এর পাশাপাশি সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে অভিযোগ জানাবেন। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা গণতন্ত্র বাঁচাতে সব রকমভাবে লড়াই চালাবেন এবং কোনও রাস্তাই ছাড়বেন না। নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফিরে গেলেও, এই ইস্যু আগামী দিনে জাতীয় স্তরে আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেবে বলে একপ্রকার নিশ্চিত।