আমেরিকার নাগরিক তথা OCI কার্ডধারী হয়েও ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে 'Leave India Notice' জারি করেছিল বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (FRRO)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা।

আমেরিকার মাটিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যদি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতেন, তাহলে কী হত? অভিনেতা ইমরান খানকে এই প্রশ্নই করল বম্বে হাইকোর্ট। ভারতের নাগরিক নন, তিনি আমেরিকার নাগরিক। রয়েছে Overseas Citizen of India (OCI) কার্ড। তাই ভারতীয় নাগরিকের মতো রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না তিনি। সোমবার অভিনেতার মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের। শুধু তাই নয়, ইমরান খানকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ না করার বিষয়েও প্রশ্ন করেছে আদালত। বিচারপতিদের বক্তব্য, ছোটবেলা থেকে ভারতে রয়েছেন তিনি। বলিউডে নিজের পরিচিতিও তৈরি করেছেন। তাহলে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি কেন? আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ইমরান খান। একই সঙ্গে তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি এ ধরনের কোনও বিক্ষোভে আর অংশ নেবেন না।

আমেরিকার নাগরিক তথা OCI কার্ডধারী হয়েও ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে 'Leave India Notice' জারি করেছিল বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (FRRO)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। আদালতে ইমরানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্ডকে বিচারপতিরা বলেন, OCI কার্ডধারী হিসেবে ভারতীয় নাগরিকের মতো আচরণ করতে পারেন না অভিনেতা। SIR নিয়ে তাঁর কিছু বলার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করে আদালত। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বিক্ষোভে অংশ নেবেন না বলে আদালতকে স্পষ্ট লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কী কারণে বিতর্ক?

গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ইমরান খান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকেই অভিনেতাকে আটক করে মুম্বই পুলিশ। এরপর ১৪ অক্টোবর Foreigners Regional Registration Office (FRRO) তাঁকে 'Leave India Notice' পাঠায়। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।

ইমরানের দাবি ছিল, তিনি আমেরিকার নাগরিক হলেও OCI কার্ডধারী এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। কোনও অপরাধমূলক কাজে যুক্ত না থেকেও তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। গত ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট। FRRO-র নির্দেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয় ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এবার শুনানিতে অভিনেতার নাগরিকত্ব এবং রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। তবে Leave India Notice নিয়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা রয়েছে।