দেশে ২১ দিনের লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার। আর এদিনই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে সেই মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বীকার করে নিলেন এই লকডাউনে দেশের আর্ছিত ক্ষতি হলেও দেশের মানুষের প্রাণ সবার আগে। চাইলেন দেশবাসীর কাছে সহযোগিতাও। করোনাকে হারাতে হলে মানতেই হবে লকডাউন, বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব, সেকথা যেমন মনে করিয়ে দিলেন তেমনি মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তাঁকে দেখা গেল গামছা দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে কথা বলতে।

 
কথায় আছে আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও, তারই যেন প্রকৃষ্ট  উদাহরণ  রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে ঘরে তৈরি মাস্ত পরতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। এদিন আর হাতে তৈরি মাস্ত নয়, একেবারে সাধারণ গামছা দিয়েই মুখ ও নাক ঢাকলেন প্রধানমন্ত্রীয যেন দেশবাসীকে পাঠ দিলেন কীভাবে মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইটা করতে হবে। 


করোনা যুদ্ধে নতুন গাইডলাইন আনছে কেন্দ্র, মারণ ভাইরাসকে হারাতে দেশবাসীকে ৭টি বান দিলেন মোদী
আরও এক মাসের জন্য লকডাউন বাড়ল ফ্রান্সে, সমাধান অধরা, অসহায় স্বীকারোক্তি ম্যাক্রঁর
আসছে কি তবে 'সেকেন্ড ওয়েভ', চিনে নতুন করে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে ঘনীভূত আশঙ্কার মেঘ

এদিন সকাল ১০টায়  প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুরু হয়। সেই সময়  তার কাঁধে ছিল লাল ও কালো সুতোর কাজ করা একটি সাদা গামছা। সেই গামছা দিয়েই নিজের মুখ ও নাক ঢেকে নেন মোদি। তারপরেই শুরু হয় ভাষণ। দেশবাসীকে নমস্কার জানিয়ে নিজের বক্তব্য শুরু করেন মোদী। পরে অবশ্য কথা বলার সময় মুখ ও নাক থেকে গামছাটি সরিয়ে নেন তিনি। এদিনও করোনা সংক্রমণ আটকাতে বাড়িতে মাস্ক মাস্ক পরার পরামর্শও দেশবাসীকে দিয়েছেন তিনি।

কয়েকদিন আগে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে বিজেপি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, করোনা ঠেকাতে মাস্ক কিনে পয়সা খরচ করার দরকার নেই। উত্তরপ্রদেশের মানুষ যেমন গলায় ঝোলানো গামছা দিয়ে নাক-মুখ ঢাকতে অভ্যস্ত, তেমন গামছাই যথেষ্ট। বিরোধীরা তখন কটাক্ষ করেছিলেন, মোদী সরকার যথেষ্ট মাস্কের ব্যবস্থা করতে পারছে না। সেই ব্যর্থতা ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী গামছায় মুখ ঢাকার কথা বলছেন। কিন্তু তিনি যে নিছক কথার কথা বলেননি, তা প্রমাণ করতে আজ গামছায় মুখ ঢেকে দেশবাসীর সামনেও দাঁড়ালেন তিনি।