গত কয়েক মাস দিল্লির বায়ু দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। ধীরে ধীরে বাতাসের দূষণের মাত্রা কমছিল। কিন্তু, দ্বীপাবলীর আগে ফসল কাটা শেষ হতেই ফের ধোঁয়ার কবলে পড়ল রাজধানী। দিল্লির বেশ কিছু এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ইতিমধ্যেই বেশ খারাপ। অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

রবিবার দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জায়গায় একিউআই মাত্রা ছিল ২০০-এর উপরে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল গাজিয়াবাদের বসুন্ধরা এসাকার। ৩০০ উপরে একিউআই মাত্রা থাকলেই যেখানে বিপজ্জনক ধরা হয়, সেখানে রবিবার এই এলাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পৌঁছায় ৪৬৫-তে। আইআইটি জাহাঙ্গির পুরি এলাকায় মাত্রা ছিল ৩৭৩, নয়ডার সেক্টর ৬২-তে ৩১৬। তবে বায়ুদূষণের জন্য কুখ্যাত আনন্দ বিহার এলাকায অদ্ভুতভাবে এি মাত্রা ছিল অনেকটাই কম ২৭৮।

এর মূল কারণ অবশ্যই  ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ও পাকিস্তানে ফসল তোলার পর গোড়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া। নাসার উপগ্রহ চিত্রে এমন বেশ কিছু চিত্র ধরা পড়েছে। সরকারি তত্য বলছে এই ধরণের ফসলের আগা পোড়ানোর ঘটনা হরিয়ানা রাজ্যে অনেকটাই কমলেও পঞ্জাবে আবার বেড়েছে। গত বছর অক্টোবরের ১১ তারিখ অবধি হরিয়ানা ও পঞ্জাবে যথাক্রমে ৫৪৭টি ও ৪৩৫টি এই ফসলের ক্ষেত পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছিস। এই বছর তা দাঁড়িয়েছে য়থাক্রমে ৪৮১ ও ৬৩০-এ।

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লিবাসীর জন্য সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন দিল্লিতে আশপাশের রাজ্যগুলি থেকে ধোঁয়া ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে। দিল্লির বায়ু ভালো থেকে মোটামুটি ভালো, সেখান থেকে খারাপ ও আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনে অবস্থা আরও খারাপ হবে।

তবে এরপরেও তিনি কৃষকদের দোষ দিতে রাজি নন, তিনি এই অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের পরের বছরের শস্য বোনার জন্য ফসলের গোড়া পুড়িয়ে দিতেই হবে। সরকার থেকে বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবস্তা করা উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নরেন্দ্র মোদী সরকারকেও তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে দূষণকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সকলকে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।