বন্দর শহর বিশাখাপত্তনমের গ্যাস দুর্ঘটনা কী শুধুই একটি দুর্ঘটনা না এর পিছনে কোনও চক্রান্ত কাজ করছে? নাকি এটি কোনও নাশকতার  অঙ্গ?জটিল এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে স্থানীয় প্রশাসন। এই গ্যাস দুর্ঘটনা ইতিমধ্যে ১০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন কয়েকশো মানুষ। যাদের অধিকাংশ শিশু অথবা বয়স্ক ব্যক্তি। কিন্তু কী থেকে হল এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। অন্ধ্রপ্রদেশের ডিজিপি দামোদর গৌতম সাওয়ং জানিয়েছেন এলপিজি পলিমার ইন্ডিয়া নামের ওই কোম্পানি রাসায়নিক প্ল্যান্টের সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানে চলছিল। তারপরেও কী করে ঘটেঘেট এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রহস্য উদ্ধাটনে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে ফরেন্সিক দল। 

কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আরআর ভেঙ্কটপুরম গ্রামে গিয়েছে ফরেনসিক দল। এই গ্রামেই রয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলজি পলিমার ইন্ডিয়ার কারখানা। নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্তকারী আধিকারিকরা কথাও বলছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে।  তিনি বলেছেল এই গ্যাসের প্রকোপের হাত থেকে বাঁচতে প্রচুর জলপানের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ জলই অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেবে। তিনি আরও জানিয়েছেন অসুস্থদের চিকিৎসা চলছে বিশাখাপত্তনমের একাধিক হাসপাতালে। 

অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগমহন রেড্ডি প্রথম থেকেই বিশাখাপত্তনমের গ্যাস দুর্ঘটনার বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। এদিন দুপুরে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ওই এলাকায়। কিং জর্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি কথা বলেন অসুস্থদের সঙ্গে। 


আগেই অন্ধ্র প্রদেশের শিল্পমন্ত্রী এমজি রেড্ডি জানিয়েছিলেন গ্যাস দুর্ঘটনার খবর সামনে আসার পরই স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকাই সিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় বিচ্ছিন্ন আরআর ভেঙ্কটপুরম গ্রাম। প্রায় লকডাউনের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় গ্যাসটি বেশি দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে গ্যাসের প্রকোপে কারখানা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাই বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

রেড্ডি প্রথমেই জানিয়েদিয়েছিলেন এই দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই নিতে হবে। পাশাপাশি অন্ধ্র প্রদেশ সরকারও পুরো ঘটনার ব্যখ্যা চাইবে। সম্পূর্ণ নিয়মনীতি মানা হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবেয প্রয়োজনে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বসেও তিনি জানিয়েছিলেন।