১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে এসেছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তখন ৪১ বছর বয়সের খামেনেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের একজন ধর্মযাজক ছিলেন। সেই সময় খামেনেই কাশ্মীর ও কর্নাটকের আলিপুরে গিয়েছিলেন।
Ayatollah Ali Khamenei Death: গ্রীষ্মের তাপ চিক্কাবল্লাপুরের জেলার শুষ্ক সমভূমিতে স্থির হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই আলিপুর গ্রামে এক অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এসেছে। বেঙ্গালুরুর ব্যস্ততম প্রযুক্তি কেন্দ্র থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রায় ২৫,০০০ মানুষের এই ছোট্ট গ্রামে যেন দিনেও অন্ধকার নেমে এসেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্থানীয় স্কুলগুলি খালি, এবং বাজারের প্রাণবন্ত কোলাহল হাওয়া। আসলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর খবর আসার পরেই গ্রামটি শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে।
মিনি ইরান ('Mini Iran' in Karnataka)
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার আলিপুরে ব্যাপকভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এই গ্রামটিকে "মিনি ইরান" (Mini Iran) বলা হয়, ১৯৮১ সালে ভারত সফরের সময় খামেনেই এই গ্রামে এসেছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে 'মিনি ইরান' নামে পরিচিত এই গ্রামটি শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার বিশাল অংশ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে তিন দিনের অঘোষিত ও স্বেচ্ছায় বনধের ঘোষণা করেছে। দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে এসেছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তখন ৪১ বছর বয়সের খামেনেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের একজন ধর্মযাজক ছিলেন। সেই সময় খামেনেই কাশ্মীর ও কর্নাটকের আলিপুরে গিয়েছিলেন, যা এর পরিচয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। তিনি স্থানীয় পণ্ডিত এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কয়েক দশক ধরে চলমান বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছিলেন। খামেনেইয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ১৯৮১ সালে বেঙ্গালুরু এবং আলিপুরে তাঁকে স্বাগত জানাতে জনতা ভিড় করেছিল। স্থানীয়দের মতে, তিনি ইরান সরকারের সহায়তায় নির্মিত আলিপুরে একটি হাসপাতালও উদ্বোধন করেছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীর সফরের সময় খামেনেই শ্রীনগরে একটি সমাবেশেও ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই সময় উপত্যকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। খামেনেই একটি সুন্নি মসজিদে শুক্রবারের নামাজ পড়েন। ১৫ মিনিটের ভাষণ দেন।
এই সফর দক্ষিণ ভারতের শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য আলিপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং অনেক পরিবারের কাছে খামেইনি কেবল একজন বিদেশি রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না বরং একজন ব্যক্তিগত পরামর্শদাতাও ছিলেন। বর্তমান শোককাল সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর কর্তব্য, এখন গ্রামের বাড়িঘর এবং মসজিদে কালো পতাকা টানানো হচ্ছে।
আলিপুরে নিরাপত্তা জোরদার
আলিপুরের পরিবেশ অত্যন্ত উত্তপ্ত। বাসিন্দারা খামেইনির প্রতিকৃতি ধরে রাস্তায় নেমে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দার সঙ্গে সঙ্গে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন যে শোক অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই বনধ চলবে, যাতে সর্বোচ্চ নেতার সফরের স্মৃতি এবং গ্রামে তাঁর প্রভাব সর্বোচ্চ মর্যাদার মধ্য় দিয়ে স্মরণ করা যায়।
