ভারতীয় ভূখণ্ড ধরেই নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে নেপাল। নেপালের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে এই বিরোধের মাঝেই সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সাফ জানালেন, লিপুলেখ পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ভারত যে নতুন রাস্তা তৈরি করেছে তা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যেই করা হয়েছে। নয়াদিল্লি এবং কাঠমান্ডুর মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে আলাপ আলোচনার উপরই জোর দিয়েছেন রাজনা সিং। তিনি বলেন, 'ভারত ও নেপালের মধ্যে যদি কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয় তবে আমরা তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করব'।

তিনি আরও জানান, ভারত-নেপাল সম্পর্ককে অন্য যে কোনও দুই দেশের মধ্যের সম্পর্কের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। তাঁর মতে ভারত-নেপালের সম্পর্ক 'রোটি-বেটি' দিয়ে বাঁধা। বিশ্বের কোনও শক্তির পক্ষেই তা ভাঙা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নেপাল যে কয়েক দশক পুরনো সীমান্ত বিরোধ ফের উসকে বিতর্কিত ভূখণ্ডকে ধরেই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তার পিছনে নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেমন রয়েছে, তেমনই, চিনের দৃঢ় শক্তিশালী অর্থনৈতিক সমর্থন তাদের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।  

এদিন উত্তরাখণ্ডে বিজেপির 'জন সম্বন্ধ' ভার্চুয়াল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গত এক বছরে দ্বিতীয় মোদী সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের দিক তুলে ধরার পাশাপাশি, রাজনাথ সিং ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের বিষয়েও স্পষ্টতা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের নবনির্মিত রাস্তাটি কোনও শুধুমাত্র কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা সহজতর করে তোলার জন্য। তিনি জানান এর আগে তীর্থযাত্রীরা নাথুলা পাস দিয়ে মানস সরোবরে যেতেন। সেই পথ অনেক লম্বা ছিল। লিপুলেখ পর্যন্ত লিংক রোডটি তৈরি হওয়ার মানস সরোবর যাত্রার একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে, যা মাত্র ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

তিনি জানিয়েছেন, নেপালে এই রাস্তাটি সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তার জন্যই নেপাল মানচিত্র বদলের মতো এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু, নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধু সামাজিক, ভৌগলিক, ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিকই নয়, দুই দেশের মধ্যে ভক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। ভারত তা কখনই ভুলবে না এবং আলোচনার মধ্য়েই নেপালের যাবতীয় ভুল ধারণা ভাঙা হবে।