- Home
- India News
- কবে হবে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, মঙ্গলে সুপ্রিম শুনানিতে কমিশনকে বড় নির্দেশ আদালতের
কবে হবে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, মঙ্গলে সুপ্রিম শুনানিতে কমিশনকে বড় নির্দেশ আদালতের
Supreme Court On WB Sir: পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের এসআইআর-এর কাজ দ্রুত মেটানোর জন্য ফের সামনে এলো বড় নির্দেশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ছিলো এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি। কী বলল আদালত? জানুন বিশদে…

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম নির্দেশে আগেই এসআইআর সংক্রান্ত তথ্যগত অসঙ্গতি এবং নথি যাচাইয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আর এবার মঙ্গলবার এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি রিপোর্ট জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে। প্রতি দিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে।
কী বলছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ
এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বে়ঞ্চ জানায় যে, পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের নেওয়া যাবে। ওই দুই রাজ্যের হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই বিষয়ে সাহায্য করার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। এসআইআর এর তথ্যগত অসংগতির নথি যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসারের অভাব রয়েছে।
কমিশনকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
রাজ্যে প্রায় ৮০ লক্ষ লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপডের তালিকা রয়েছে। বিচারক পদমর্যাদার ২৫০ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে প্রায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কাজে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন বছর বা তা বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন) পদমর্যাদার অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। প্রতিদিন একজন জুডিশিয়াল অফিসার ২৫০ টি করে শুনানির নিষ্পত্তি করলেও ৮০ দিন সময় লাগবে। তাই সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যের বিচারপতি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ছাড়াও ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ড থেকে বিচারকদের নিয়ে আসা হবে। এই দুই রাজ্যের প্রধান বিচারপতিকে এই কাজে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করব।কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কোনও আবেদন এলে তা সহানুভূতির সঙ্গে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে ঝাড়খন্ড ও ওড়িশার প্রধান বিচারপতি কে।' এক্ষেত্রে ভিন রাজ্যের বিচারপতিদের আসা-যাওয়া এবং থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা এবং খরচ বহন করতে হবে কমিশনকে বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
কী বললেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ?
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন অন্য রাজ্য থেকে জুডিশিয়াল অফিসাররা এলে তাদের বাংলা বুঝতে অসুবিধা হবে। তার জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এই পরিস্থিতিতে আমাদের কিছু করার নেই। ইতিহাস বলছে একটা সময় এই রাজ্যগুলো একে অপরের অঙ্গ ছিল এবং একই প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই স্থানীয় ভাষা বা উপভাষার ধরন থেকে তারা কিছুটা ধারণা করতে পারবেন।'
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কী জানিয়েছিল?
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলি নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদি পরে কোনও নাম যুক্ত হয়, তাহলে অতিরিক্ত চূড়ান্ত তালিকাও প্রকাশ করা যাবে। এদিন শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করার কোনও সময়সীমা নেই। তাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, পরে যে সমস্ত অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হবে সেগুলোকে ২৮ তারিখের চূড়ান্ত তালিকা বলেই গণ্য করা হবে। ব্যক্তির অগ্রাধিকার এবং কমিশনের পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে কবে?
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই এই নথি যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি আগে জমা পড়া নথি গ্রহণ করা হবে। এবং অতিরিক্ত যে তালিকা প্রকাশিত হবে সেগুলোকে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা হিসেবেই গণ্য করা হবে।
সুপ্রিমকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা
সুপ্রিমকোর্ট এদিনও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের সুবিধার জন্য এসআইআর-এর রুল সম্পর্কে অবগত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আধার কার্ড এবং অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্যতা পাবে। দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারকে তথ্য এবং নথির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বোঝানোর দায়িত্ব থাকবে ইআরও এবং এইআরও-দের।

