ভারতীয় সেনা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে চিন। ভাইরাল করা হয়েছে একটি উপগ্রহ চিত্র।  আর সেই উপগ্রহ চিত্রে দেখানো হয়েছে ভারতের থেকে খারাপ অবস্থানে রয়েছে চিন। কিন্তু সেনা বাহিনী সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান রয়েছে ওই এলাকায়। একটি সূত্র দাবি করছে ওই এলাতায় রীতিমত সুবিধেজনক অবস্থানে রয়েছে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। তুলনামূলকভাবে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে ভরত। সেনা সূত্রে খবর ওই এলাকায় মোতায়েন ভারতীয় সেনাদের রীতিমত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া গয়েছে। 

উপগ্রহ  চিত্রটি সম্ভবত ৯ অথবা ১০ সেপ্টেম্বর তোলা হয়েছিল। প্যাংগংএর দক্ষিণে স্প্যানগুর লেক এলাকার ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। চিনের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া উইবোতে ঘুরছে সেই ছবি। যেখানে দেখা হয়েছে স্প্যাংগুরের ক্যামেরের পশ্চিমে চিনা ও ভারতীয় সেনা বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান করছে। আর  বলা হয়েছ ওই এলাকায় উচ্চ স্থানগুলিতে অবস্থান করছে ভারত। সেনা  সূত্রে পাওয়া গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় প্রায় ৪০ মিটার উঁচুতে রয়েছে লাল ফৌজ। তারা অবস্থান করছে ৪৮০০ মিটার উঁচুতে। আর ওই এলাকায় থেকে ভারতীয় সেনা বাহিনীর ঘাঁটি চুসুলের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। সেনা সূত্রে পাওয়া খবরে বলা হয়েছে ওই এলাকা থেকে ভারতীয় বাহিনীর ওপর রীতিমত নজরদারি রাখছে চিন। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে ওই এলাকায় কৌশলগত উচ্চ স্থানগুলি দখল করে নেওয়ার অর্থই হল চুশুল আর গ্যারিসনে এর ওপর প্রত্যক্ষ নজরদারী চালিয়ে যাওয়া। যা ইতিমধ্যেই করতে শুরু করেছে চিন। গোয়েন্দারা মনে করছে চিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উল্টো ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হল  পিপিলস লিবারেশন আর্মিকে দুর্বল দেখানো। আর এই কাজে বেজিং যদি সফল হয় তাহলে   প্যাংগং-এর বিস্তীর্ণ এলাকায় কিছুটা হলেও নজরদারী কমাবে ভারত। আর তাতে আখেরে লাভ হবে চিনা সেনার। 


চিন দক্ষিণ প্যাংগং-এর যে উপগ্রহ চিত্রটি ভাইরাস করছে সেটি সম্ভবত গেওফেন-২ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা হয়েছে। গেওফেন-২ স্যাটেলাইটটি বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করে। এই একই কাজের জন্য চিন কুয়েঝা-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করেছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি ব্যার্থ রয়েছে। 

কিন্তু চিনের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি ভারত। সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় ভারতীয় সেনাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ এলাকা থেকে চিনা সেনাদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ হাতে পাওয়া উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্ত ঘটায়নি চিনা সেনা।  হেলমেট পাহাড়ের শীর্ষে এখনও চিনার ট্রাক রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি তাঁবু রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।