সব বিরোধী দল এক হয়ে গেলেও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এক ইঞ্চি পিছু হটবে না ভারতীয় জনতা পার্টি। শুক্রবার রাজস্থানের যোধপুরের সভা থেকে ফের তা স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে নয়া আইন নিয়ে রাহুল গাঁধীকে প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। 

এ দিনই শিলিগুড়িতে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বার বার পাকিস্তানের নাম টেনে দেশের অপমান করছেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদীকে পাকিস্তানের দূত বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রী কি পাকিস্তানের দূত, শিলিগুড়ি থেকে নয়া আক্রমণ মমতার

যোধপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- সহ সমস্ত বিরোধীদেরই আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। মমতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, 'মমতাদি আপনি কেন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছেন? শরণার্থীরা আপনার কী ক্ষতি করেছে? নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চান।' তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি এবং কংগ্রেস, সবাই এই আইনের বিরোধিতা করে গিয়ে মিথ্য কথা ছড়াচ্ছে।'

অমিত শাহ এ দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধীরা যতই একজোট হোন না কেন, কোনও অবস্থাতেই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে পিছু হটবে না বিজেপি। পাল্টা বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ বলেছেন, শনিবার থেকেই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে শুরু করবেন বিজেপি -র কর্মীরা। বিরোধীদের অপপ্রচারের পাল্টা হিসেবে প্রায় তিন কোটি বাড়িতে যাবেন বিজেপি কর্মীরা। এই আইন যে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে না, যুবসমাজ, সংখ্যালঘুদেরও তা বোঝানো হবে বলে এ দিন জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। 

একই সঙ্গে এ দিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধীকেও আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। রাহুলকে নাগরকিত্ব আইন নিয়ে খোলা বিতর্কে অংশ নিতেও আহ্বাণ জানিয়েছেন তিনি। অমিতের অভিযোগ, যাঁরা দেশকে টুকরো টুকরো করার কথা বলেন, তাঁদেরকে সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গাঁধীকেও কটাক্ষ করে অমিত বলেন, 'সাহস থাকলে আমার সঙ্গে বিতর্ক সভায় বসুন। তা না হলে আমি ইটালীয় ভাষায় অনুবাদ করে দিচ্ছি যাতে আপনি পড়তে পারেন।'