শুধু শিলিগুড়ি নয়, নাগরিকত্ব বিরোধী আন্দোলন নিয়ে পাহাড়ে পৌঁছতে চাইছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আগামী ২২ জানুয়ারি পাহাড়ে তিনি নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি-র বিরোধিতায় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। এ দিন শিলিগুড়িতে মাল্লাগুড়ি থেকে বাঘাযতীন পার্ক পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মিছিল থেকেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন, 'প্রধানমন্ত্রী কি পাকিসাত্নের দূত?'

নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিল নিয়ে এ দিন শিলিগুড়ির রাস্তায় পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই  মিছিল শুরুর আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, এনপিআর-এর নামে মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মমতা বলেন, ভারতকে নিয়ে আমরা গৌরব করি। কিন্তু যখন বিজেপি-র নেতারা প্রশ্ন করলেই বলেন, সবাই পাকিস্তানে চলে যাও, তখন খারাপ লাগে।' মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অধিকারের কথা বললেই পাকিস্তানের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। খাবার, চাকরি চাইলেও দেশবিরোধী তকমা দিয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা বলছেন বিজেপি নেতারা। 

আরও পড়ুন- প্রতিবেশী দেশের প্রধানদের নববর্ষের শুভেচ্ছা নরেন্দ্র মোদীর, বাদ পাকিস্তান

আরও পড়ুন- মহাকাশের পর অতল মহাসমুদ্র, বিজ্ঞান কংগ্রেসে নয়া অভিযানের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেন, 'আমাদের দেশ, গণতন্ত্র এত বড়। আপনি কেন পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের দেশের তুলনা করেন? আপনার লজ্জা লাগে না! আপনি কি পাকিস্তানের দূত হয়ে গিয়েছেন? আমরা হিন্দুস্তানের কথা শুনতে চাই। সবকথায় পাকিস্তানকে টেনে এনে কেন পাকিস্তানকে গৌরবান্বিত করছেন? আমরা পাকিস্তানকে সমর্থন করি না। হিন্দুস্তানকে সমর্থন করি।'

অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বার বার পাকিস্তানকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- সহ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এ দিন পাল্টা প্রধানমন্ত্রীকেই সেই পাকিস্তান নিয়ে আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী। মিছিল শেষে তিনি বলেন, 'আমরা ঐক্যবদ্ধ হিন্দুস্তান চাই। কথায় কথায় পাকিস্তানের কথা বলে দেশের অপমান করবেন না। কই আপনি তো বাংলাদেশ, নেপালের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কথা বলেন না। লজ্জ করে না।' 

এর পাশাপাশি এ দিনও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি-র প্রণয়ন এ রাজ্য আটকাতে যতদূর যাওয়ার তিনি যাবেন। আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, 'ভবিষ্যতের অধিকার সুনিশ্চিত করতেই তাঁকে পথে নামতে হয়েছে।' মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিনও আশ্বস্ত করেছেন, কারও নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না। এ দিনের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলনেত্রী জানিয়ে দেন, আগামী ৯ জানুয়ারি  তিনি উত্তর চব্বিশ পরগণার মধ্যগ্রাম থেকে বারাসত পর্যন্ত মিছিল করবেন তিনি। এর পর ২২ জানুয়ারি পাহাড়ে গিয়ে নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।