দিল্লি-তে গত রবিবার থেকে সিএএ নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল দুই গোষ্ঠীতে। ক্রমে তা সাম্প্রদায়িক রূপ নিচ্ছিল। গত চারদিন ধরে ক্রমেই বেড়েছে মৃত্যু মিছিল। এই উত্তপ্ত আবহেই শুক্রবার ভুবনেশ্বরে মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অমিত শাহ। ওড়িশার লোকসভা ভবনে ইস্টার্ন জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকে মমতা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীরাও। এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাম-কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি-তৃণমূলও।

আরও পড়ুন - ধ্বংসের ধূসরতা, বাতাসে পোড়া গন্ধ, চলতে ফিরতে মিলছে লাশ - দিল্লির হিংসা ছবিতে ছবিতে

গত চারদিনে দিল্লিতে নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্নের মুখে অমিত শাহ-এর নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ। আক্রান্তদের অনেকেই সরকারি তরফে হিংসা নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে বিজেপি বিরোধী সবকটি দলই এই নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্টার্ন জোনাল কাউন্সিলের বৈঠক উপলক্ষ্য করে তিনি তিন দিন আগেই চলে গিয়েছেন ওড়িশার পুরি-তে। সেখানে জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন, কিন্তু দিল্লি নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি।

আরও পড়ুন - মে মাসেই বিয়ে, দিল্লিতে পুলিশের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হল যুবকের পুরুষাঙ্গ-পায়ু

এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিঁধতে ছাড়েনি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। কংগ্রেসের লোকসভার পরিষদীয় নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দিল্লির হিংসা নিয়ে চুপ করে রয়েছেন তাতে তিনি বিস্মিত। আর সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে নিজেদের বাঁচাবার চেষ্টা করছেন 'পিসি-ভাইপো'। তাই দিল্লি নিয়ে কিছু বলতে পারবেন না মমতা। অবশ্য শুধু মমতা নয়, সিপিআইএম দিল্লির পরিস্থিতি সামলাতে অমিত শাহ-এর 'অপদার্থতা' নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

আরও পড়ুন - 'আয় পাকিস্তানি তোকে নাগরিকতা দেব', রেহাই পেলেন না বিএসএফ জওয়ান-ও

এর জবাবে তৃণমূলের মহাসচিব তথা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সিপিআইএম-কংগ্রেস এখন জনতাবিহীন, জনবিচ্ছিন্ন। এইসব করে মানুষের মনে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে তাঁরা। মমতা বন্দোপাধ্যায়, তাঁর সুবিধা মতো সময়ে দিল্লি নিয়ে কথা বলবেন, বলেও দাবি করেন পার্থ। তিনি আরও জানান, তৃণমূলের কাছে জনগণের কথাই সব। আর কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। তৃণমূল মানুষের সঙ্গেই আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মানুষের মুখ।

আরও পড়ুন - দড়ি বেয়ে নেমে দেদার ভাঙচুর-পোড়ানো, দিল্লির স্কুলই হয়ে উঠেছিল হামলার ঘাঁটি  

বিজেপি অবশ্য মমতা-অমিত শাহ"এর বৈঠককে স্বাগতই জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য এটা রাজনৈতিক বৈঠক নয়, রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি বৈঠক। আগে মমতা যেতেন না সরকারি বৈঠকে। এখন তাঁর বোধোদয় হয়েছে, এটা ভালো। আরও আগেই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় হওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুন - হিংসা-কে লবডঙ্কা, অশান্ত দিল্লিতে হিন্দু বোনের বিয়ে দিলেন তাঁর মুসলিম ভাইরাই

শুক্রবারের এই বৈঠকের পর রবিবার পশ্চিবঙঅগে রাজনৈতিক সভা করবে অমিত শাহ। তাঁর আগমনকে ঘিরে উত্তাপ বাডড়তে পারে রাজ্য রাজনীতির। এর আগে সিএএ-এনপিআর-এনআরসি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেইদিকে যেমন নজর থাকবে, তার পাশাপাশি দুদিন পরেই রাজ্যে অমিত শাহ-এর সভা ঘিরে তৃণমূল কী কর্মসূচি নেয়, সেই নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।