- Home
- India News
- India's Gold Mine: সোনার বিশাল খনি পাওয়া গেল ভারতে, কত টন মজুত রয়েছে জানলে চমকে যাবেন
India's Gold Mine: সোনার বিশাল খনি পাওয়া গেল ভারতে, কত টন মজুত রয়েছে জানলে চমকে যাবেন
ভারতের খনি শিল্প এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ এখন দেশের প্রথম বৃহৎ আকারের বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সোনার খনি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ভারতের খনি শিল্প এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ এখন দেশের প্রথম বৃহৎ আকারের বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সোনার খনি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুরনুল জেলায় অবস্থিত 'জোনাগিরি প্রকল্প'টির কাজ মে মাসের শুরুর দিকে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভারতের আমদানি নির্ভরতার ইতিহাসে একটি সম্ভাব্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ভারত সোনা আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। প্রতি বছর ৮০০ টনেরও বেশি সোনা আমদানি করতে হত, যার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বিপুল চাপ সৃষ্টি হত।
দেশে সোনা উৎপাদন বরাবরই ছিল নগণ্য। 'হুট্টি গোল্ড মাইনস' প্রতি বছর মাত্র ১.৫ টন সোনা উৎপাদনে সক্ষম ছিল। ২০০০ সালে 'কোলার গোল্ড ফিল্ডস' বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বৃহৎ আকারের সোনা উত্তোলনের ক্ষেত্রে এক দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো মূলত বিদেশের মাটিতে খনি অনুসন্ধানের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।
'জিওমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড'-এর উদ্যোগে গড়ে ওঠা জোনাগিরি প্রকল্পটি এখন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই পুরনো চিত্রটি বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে। জোনাগিরি, এররাগুডি এবং পগিদিরাই—এই তিনটি গ্রামজুড়ে প্রায় ৫৯৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনিটি দেশের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন।
অন্ধ্রপ্রদেশের খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান সচিব মুকেশ কুমার মীনা এই অগ্রগতিকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি কেবল অন্ধ্রপ্রদেশের জন্যই নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক স্বর্ণখনি শিল্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই খনিতে ১৩.১ টন সোনার প্রমাণিত মজুত রয়েছে। তবে অনুসন্ধানের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মজুতের পরিমাণ বেড়ে ৪২.৫ টন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে আগামী ১৫ বছর ধরে এই খনি থেকে প্রতি বছর ১,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পরিশোধিত সোনা উৎপাদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই খনিটি হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ কমাতে পারবে না, তবুও এটি অভ্যন্তরীণ সম্পদগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গৃহীত একটি কাঠামোগত পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বহন করে।