কাশ্মীরে যে বড় কিছু ঘটতে চলেছে সেটা কিছুদিন ধরেই অনুমান করা যাচ্ছিল। আর সেই জল্পনাকে বাস্তবায়িত করে সোমবার সংসদে বড় প্রস্তাব পেশ করেছেন অমিত শাহ। এই প্রস্তাবে জন্মু-কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিছুদিন আগে জঙ্গি হানার পর অমরনাথ যাত্রীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। থমথমে হয়ে যায় কাশ্মীরের পরিবেশ। রবিবার মধ্যরাত থেকে গৃহবন্দি করা হয় ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি-দের মতো নেতা-নেত্রীদের। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। 

১৯৪৭ সালে শেখ আবদুল্লা দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল ৩৭০ খসড়াটি। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ একটি অস্থায়ী ধারা। যা প্রয়োজনে রদ করা যায়। শুধু তাই নয় এর আগে ৯০-এর দশকে, কংগ্রেস সরকারের শাসনকাল এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ভারতীয় সেনাদের হাতে বিশেষ ক্ষমতাদানের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রদান হওয়া এই ৩৭০ ধারা ব্যাবহার করা হয় মূলত কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের জন্য। তবে এই ৩৭০ ধারার সঙ্গে জুড়ে আছে ৩৫এ ধারাটিও। যার ফলে রদ হয়েছে ৩৫এ ধারাটিও। এই ৩৫এ ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের সমস্ত স্থানীয় বাসিন্দার তাদের সম্পত্তি নির্ধারণ করার ক্ষমতা আছে। আর এই দুটি ধারাই রদ হতে চলেছে বলে জানাচ্ছে রাষ্ট্র।  

এই ৩৭০ ধারা রদ হলে কাশ্মীরের শাসনভার আসবে কেন্দ্রীয় সরকারের হতে। যার ফলে অনেকবেশি কড়া হবে সেখানকার নিরাপত্তা। এছাড়াও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের হাতে থাকবে না কোনও অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কাশ্মীরের দলীয় নেতারা তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে তাঁরাই আবার কাশ্মীরের নব্য প্রজন্মকে উৎসাহিত করে এই সব লড়াই দাঙ্গার জন্য। মোদী সরকার মনে করছে কাশ্মীরের এই ৩৭০ ধারা রদ হলে বন্ধ হবে এই সবও।  

অন্যসব রাজ্যগুলির ওপর সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকলেও জন্মু-কাশ্মীরের ওপর তা ছিল না। তবে এবার এই ধারা রদের ফলে কেন্দ্রের হতেই থাকবে সমস্ত অধিকার। ৩৭০-এর বিলোপের ফলে জন্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে যাবে। যা নিয়ে উত্তাল দেশের রাজনীতি প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই। যার ফলে বিশেষ মর্যাদা হরাতে চলেছে জন্মু-কাশ্মীর।