Iran Wra: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু'জনেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। 

পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।পরে এক্স ( টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতিতে "আলোচনা ও কূটনীতির" প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে একযোগে কাজ করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "আজ আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বললাম। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং আলোচনা ও কূটনীতির পথে ফেরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা আমরা আলোচনা করেছি। ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য আমরা একযোগে চেষ্টা চালিয়ে যাব।"

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা মোদীর

এর আগে ২ এবং ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মোদী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতারের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

সেই সব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেন। পাশাপাশি, ওই দেশগুলিতে বসবাসকারী বিশাল সংখ্যক ভারতীয়দের সুরক্ষা ও কুশলতার খোঁজও নেন তিনি। যা প্রমাণ করে যে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

কূটনীতির ওপর জোর মোদীর

আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

রবিবার তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। সেখানেও তিনি শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে সব ধরনের হিংসা বন্ধ করার জন্য ভারতের আহ্বানের কথা তুলে ধরেন।

ম্যাক্রোঁর বার্তা

অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই পরিস্থিতির জন্য মূলত ইরানকেই "দায়ী" করেছেন। তিনি বলেন, ইরান "একটি বিপজ্জনক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ক্ষমতা তৈরি করেছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলিতে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে।"

তবে ম্যাক্রোঁ আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই হামলা "আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে গিয়ে করা হয়েছে।" ফ্রান্ট এই যুদ্ধ জড়াবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে ম্যাক্রোঁ জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একমত হয়ে "যত দ্রুত সম্ভব এই হামলা বন্ধ করার" ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। তিনি "কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে" এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত, শনিবার ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি এবং অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হন। এরপরই তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, যার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে।