সুষমা স্বরাজের মৃত্যু শোক সামলে উঠতে না উঠতেই ফের নক্ষত্র পতন বিজেপি-তে, চলে গেলেন ভারতীয় রাজনীতির এক অন্যতম বর্ণময় চরিত্র অরুণ জেটলি। দীর্ঘদিন ধরে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধের পর অবশেষে আজ হার মানলেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। আজ বেলা ১২টা বেজে ৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। 

চলে গেলেন জেটলি, রেখে গেলেন ১১ মাইলস্টোন

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। আক্রান্ত ছিলেন এর বিরল ক্য়ান্সারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, 'সফট টিস্যু সার্কোমা' নামক এক বিরল রোগ তাঁকে গ্রাস করেছিল। এই 'রেয়ার ভ্যারাইটি ক্যান্সার' ধীরে ধীরে যকৃত ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৯ অগাস্ট শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হল দিল্লির এইমস-এ। গত দু'সপ্তাহে কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃ্ত্যুতে বিজেপি-সহ গোটা রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

কলেজ জীবনে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে রাজনীতির অ আ ক খ শিখলেও কেরিয়ার শুরু করেন একজন আইনজীবি হিসাবে। ভারতের শীর্ষ আদালতে সিনিয়ার অ্যাডভোকেট হিসাবেও কাজ করেছেন অরুণ জেটলি। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময়ে শ্রীমতি গান্ধীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন জেটলি। সেই সময়ে প্রথমে তাঁকে আটক করে আম্বালা জেলে এবং পরে দিল্লির তিহার জেলে আটকে রাখা হয়। তারপর থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর থেকে আর ফিরে তাকাননি তিনি। 

২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন জেটলি। বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা বাজপেয়ী সরকার এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারে অর্থমন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার, কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রি এবং আইন ও বিচারবিভাগীয় দফতর সামলেছেন। তবে কেবল দলের অন্দরেই নয়, দলের বাইরেও বিরোধীদের সঙ্গে বরাবরই সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন তিনি। পরে বিজেপির অন্দরে লালকৃষ্ণ আডবানির ঘনিষ্ট হিসাবে নাম উঠে আসে তাঁর। পরে অবশ্য নরেন্দ্র মোদীর কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে ২০১৪ সালে অমৃতসর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন এই প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তবে তাঁর বাগ্মীতা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শীতাকে সম্বল করে রাজনীতির আঙিনায় খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন! প্রয়াত অরুণ জেটলি, ফিরে দেখা স্মৃতির পাতায়

নরেন্দ্র মোদীর প্রথম টার্মের মন্ত্রীসভায় একজন শক্তিশালী নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন অরুণ জেটলি এবং তাঁকে দলের 'আল্টিমেট ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট' হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে শারিরীক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালে নবনির্বাচিত মোদী সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছিলেন যে, শারিরীক অসুস্থতার জন্য নতুন মন্ত্রীসভার কোনও দায়ভার তিনি নিতে পারবেন না। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনীতি মহল।