Assam Floods Update: অসমে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে কাছাড় ও শিবসাগর জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এর পাশাপাশি, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার সহ দেশের অন্যান্য অংশেও বন্যা ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Assam Floods Update: অসমে বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান। রবিবার অসমের দুর্যোগ প্রতিবেদন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (Disaster Reporting and Information Management System Assam) কর্তৃক জারি করা একটি বুলেটিন অনুসারে, বন্যায় অনেক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬০ জন পুরুষ, ২৩ জন মহিলা এবং ১৮ জন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন ছেলে এবং ছয়জন মেয়ে।

এদিকে, দিল্লিতে যমুনা নদীর ক্রমবর্ধমান জলস্তর বন্যার আশঙ্কা তৈরি করছে। উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহার, কেরালা এবং গুজরাটেও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

শিবসাগরে মৃতের সংখ্যা ৫০ থেকে কমে ৪৯ হয়েছে

প্রশাসন জানিয়েছে, "শিবসাগরে একটি মৃত্যু ভুলবশত একই নামে দুবার নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তাই, জেলায় এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৫০-এর পরিবর্তে ৪৯ হবে।"

কাছাড়ে ২২ জন এবং শিবসাগরে ৪৯ জনের মৃত্যু

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে কাছাড় এবং শিবসাগর। এখন পর্যন্ত কাছাড়ে ২২ জন এবং শিবসাগরে ৪৯ জন মারা গেছেন। করিমগঞ্জে নয়জন এবং গোলাঘাটে আটজন মারা গেছেন। ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, সোনিতপুর এবং কার্বি আংলং জেলাতেও বন্যায় প্রাণহানি ঘটেছে।

রাজধানীতে ঝড় ও বৃষ্টির সতর্কতা

বৃষ্টির পর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদীতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, হাথনিকুণ্ড ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পর যমুনা নদীর জল এখন কমতে শুরু করেছে। বন্যা ও সেচ বিভাগ যমুনার জলস্তরের উপর ক্রমাগত নজর রাখতে সতর্ক রয়েছে। এদিকে, রাজধানীতে ঝড় ও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবল বাতাস বইতে পারে। তাই, আবহাওয়া নিয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।

উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় হলুদ বৃষ্টি সতর্কতা

উত্তর প্রদেশে একটানা বর্ষার কারণে অনেক নদীর জলস্তর বেড়েছে। গঙ্গা, যমুনা, শারদা ও সরযূ-সহ ১০টিরও বেশি নদী বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শাহজাহানপুরের মির্জাপুর এলাকাতেও গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সেখানকার বেশ কয়েকটি গ্রামে গঙ্গার জল ঢুকে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। সাহারানপুর, শামলি, মুজাফফরনগর, বিজনর, বাগপত, মিরাট, লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ, শ্রাবস্তী, বলরামপুর, সীতাপুর, গোন্ডা, সিদ্ধার্থনগর, বারাবাঙ্কি, লখনউ, উন্নাও, কানপুর নগর, কানপুর দেহাত, কানউরা, কানউরার অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।

বিহারে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা

বিহারের বেশ কয়েকটি জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। গয়া, পূর্ব চম্পারন, পশ্চিম চম্পারণ, রোহতাস, নওয়াদা, বাঙ্কা, লক্ষীসরাই, মুঙ্গের, নালন্দা, বক্সার, সিওয়ান, বৈশালী, মুজাফ্ফরপুর, সমষ্টিপুর, দারভাঙ্গা, মধুবনি, পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, বেসাহারপায়া, সাহারপাহারায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।