কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা জানিয়েছেন যে যোরহাট জেলায় বন্যার জল নামতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে এই বন্যায় জেলায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গোটা অসমে মৃতের সংখ্যা ৯৯ ছুঁয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে।

রবিবার কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা জানিয়েছেন, যোরহাট জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। জলস্তর ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বড় আকারে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলার ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত বন্যায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি চাষের জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু গবাদি পশু মারা গেছে।

যোরহাটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারঘেরিতা বলেন, "আমাদের যোরহাট জেলায় বিধ্বংসী বন্যায় ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩৯টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল, যেখানে ৯,৬৫৯ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৭,০০০-এর বেশি গবাদি পশু ভেসে গেছে এবং মোট ১,১৮,০০০ পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"

জলস্তর নামার সাথে সাথে প্রশাসন ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ আরও জোরদার করেছে। বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে ত্রাণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য ক্রমাগত সাহায্য করে চলেছে। জেলা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে।

অসমের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক

এদিকে, অসমের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক। রাজ্যজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৯ হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহতের খবর আসছে। শনিবার প্রকাশিত ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DRIMS)-এর বুলেটিন অনুসারে, এই বিধ্বংসী বন্যায় রাজ্যের একাধিক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ, ২৩ জন মহিলা এবং ১৮ জন শিশু (১২টি ছেলে ও ৬টি মেয়ে) রয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে কাছাড় জেলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং শিবসাগরে ১০ জনের। এছাড়া করিমগঞ্জ (৯ জন মৃত) এবং গোলাঘাট (৭ জন মৃত) জেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। পাশাপাশি ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলং থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং রাজস্ব বিভাগ জলস্তর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বন্যা কবলিত অঞ্চলের মানুষদের সাহায্য করছে।