বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ। অন্তত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঝড়ে গাছপালা উপড়ে গেছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল ও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জেলাভিত্তিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা রাতারাতি ৯৬-এ দাঁড়িয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ। অন্তত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঝড়ে গাছপালা উপড়ে গেছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল ও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জেলাভিত্তিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা রাতারাতি ৯৬-এ দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে প্রয়াগরাজ থেকে, যেখানে ২১ জন মারা গেছেন। এরপরই রয়েছে সন্ত রবিদাস নগর (১৪ মৃত্যু), ফতেহপুর (১১ মৃত্যু) এবং মির্জাপুর (১০ মৃত্যু)। উন্নাওতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, অন্যদিকে বদায়ুনে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। বরেলি এবং প্রতাপগড়ে চারজন করে মারা গেছেন, আর হারদোই, কানপুর দেহাত, সোনভদ্র এবং সম্ভলে দুজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সীতাপুরে মারা গেছেন তিনজন। এছাড়া বস্তি, রায়বেরেলি এবং শাহজাহানপুরে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঝড়ের কারণে প্রয়াগরাজের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পৌরনিগমের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে রাস্তা থেকে ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, যান চলাচল শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে। এই আকস্মিক ধূলিঝড় ত্রিবেণী সঙ্গম এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতি করেছে, যেখানে তীর্থযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত পুরোহিতদের তৈরি করা কুঁড়েঘরগুলো উপড়ে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তারা এই ধ্বংসযজ্ঞকে এখন পর্যন্ত এই এলাকায় ঝড়-সম্পর্কিত অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন; এদিকে প্রশাসনিক দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের পরিসংখ্যান সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Scroll to load tweet…

প্রচণ্ড বাতাসের তোড়ে টিনের চালা ও সোলার প্যানেলগুলো উড়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে দেওয়াল ধসে পড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেলগুলো দুমড়েমুচড়ে গেছে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আবহাওয়া হঠাৎ করেই বদলে যায়। এর ফলে প্রবল ধূলিঝড় ও কালো মেঘের ঘনঘটা নেমে আসে, যা দিনের বেলায়ই পুরো জেলাকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাইরে অবস্থানরত মানুষের চলাফেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল; তাই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের ভেতরেই থাকেন।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটিতে, সুরিয়াওয়ান থানা এলাকার অন্তর্গত খরগাসেনপুর গ্রামে ঝড়ের সময় একটি বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়লে এক মহিলা ও তাঁর তিন মেয়ে-সহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়। বরেলি জেলার ভামোরা থানা এলাকায় এক প্রচণ্ড ঝড়ের সময় একটি বিয়েবাড়ির টিনের চালা উড়ে যায়। এক ব্যক্তিকে প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ছিটকে ফেলে। মাঠে পড়ে লোকটি গুরুতর আহত হন। জেলা প্রশাসন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে এটি এআই (AI) বা কোনও সিনেমার দৃশ্য। বাতাসে লোকটির অ্যাক্রোব্যাটিক স্টান্ট দেখে মানুষ অবাক হয়ে যাচ্ছে। তবে, ভামোরা এলাকায় সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে জানতে পারে যে ভিডিওটি সম্পূর্ণ বাস্তব এবং ঘূর্ণিঝড়ের গতি এতটাই প্রবল ছিল যে এটি ভারী টিনের চালাটিকে খড়ের মতো উড়িয়ে নিয়ে গেছে।