আর কিছু সময়ের অপেক্ষা। দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় হিক্কা। মৌসম ভবনের মতে, এই প্রবল ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে গুজরাত,অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা  ছাড়াও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ফলে বুধবার সকাল থেকেই চিন্তার মেঘ গ্রাস করতে পারে এই তিন  রাজ্য়ে। ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। বৃহস্পতিবারের আগে আপাতত মুক্তি মিলছে না ঘূর্ণিঝড় হিক্কা থেকে।  

উপগ্রহ চিত্র দেখে মৌসম ভবন জানিয়েছে, গুজরাতের ভেরাভাল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তা থেকেই অনুমান করা হয়েছিল, এই নিম্নচাপই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। যদিও হাওয়া অফিস জানিয়েছে,আগামী দু দিনের মধ্যে ওমানের দিকে চলে যেতে পারে হিক্কা। ঘূর্ণিঝড় হিক্কার প্রভাবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ধেয়ে আসতে চলেছে গুজরাতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। গুজরাতের ভেরাভাল, পাকিস্তানের করাচির ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ওমানের মাসিরাহের ৭৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তেই হতে চলেছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। হাওয়া অফিসের তরফে আগামী বুধবার ওমানে হিক্কার প্রভাবে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

হাওয়া অফিসের আশঙ্কা, বুধবার পর্যন্ত আরব সাগরে ৭০-৮০ কিলমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। মৌসম ভবনের তরফে আরও বলা হয়েছে , হিক্কার জেরে আগামী ২৪ ঘণ্টায় গুজরাত উপকূলে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ উপকূলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ইতিমধ্যেই হিক্কাকে ঘিরে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। তবে অযথা আতঙ্কিত হতে না করেছে প্রশাসন। প্রয়োজনে অস্থায়ী শিবির গড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের।