করোনাভাইরাস মহামারির গতি রুখতে গত ২৪ মার্চ ভারত জুড়ে লকডাউন  জারি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর ফের সেই লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বাপের বাড়ি এসে আটকে পড়েছিলেন এক মহিলা। তিনি বাড়ি ফিরছেন না বলে রেগে গিয়ে তাঁর স্বামী লকডাউনের মধ্যেই প্রেমিকার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি, বিহারের পাটনা জেলার।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ধীরজ কুমার। পাটনা জেলার পালিগঞ্জ ব্লকে তাঁর বাড়ি। স্ত্রী গুড়িয়া দেবীর সঙ্গে তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। সম্প্রতি, সন্তান সহ গুড়িয়া দেবী বিহারের জাহানাবাদ জেলায় তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর ফিরে আসার কথা ছিল ২৫ মার্চ। কিন্তু, তার আগের রাত থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশব্যাপী অভূতপূর্ব লকডাউন জারি করেছিল। লকডাউনের ফলে গণপরিবহন-সহ সমস্ত পরিবহন পরিষেবা বন্ধ। তাই তাঁর আর পাটনায় ফেরা হয়নি।

লকডাউন উঠতেই চিনে চুমু খাওয়ার প্রতিযোগিতা, দেশেই উঠল সমালোচনার ঝড়

 

করোনাভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে 'নিচ দিয়ে', সুরক্ষার হাস্যকর দাওয়াই দিলেন পাক মন্ত্রী

করোনা সংকটে জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রায় সব রাষ্ট্রনেতাদের, ব্যতিক্রম শুধু তিনজন

 

এদিকে স্ত্রীসঙ্গ ছাড়া লকডাউনে বাড়িতে বসে ধীরজ কুমার ছটফট করছিলেন। প্রায়ই তিনি স্ত্রীকে ফোন করে  ফিরে আসতে বলতেন। কিন্তু গুড়িয়া দেবী প্রত্যেকবারই জানাতেন, জাহানাবাদ থেকে পাটনার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। পরিবহনের কোনও ব্যবস্থা নেই। হেঁটে যে আসবেন, তারও উপায় নেই, কারণ প্রশাসন লোক চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না। এইভাবে চলতে চলতেই গত সপ্তাহে ধীরজ কুমার প্রচন্ড রেগে যান। তাঁর বাড়ির কাছেই আরও এক মহিলার সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক ছিল। অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধে সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নিয়েই পাটনার বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেন।

স্বামীর এই কর্মের কথা জানতে পেরে গত শুক্রবার, গুড়িয়া দেবী এবং তার বাবা-মা জাহানাবাদের দুলহিন বাজার থানায় গিয়ে ধীরজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ররাতে পাটনা থেকে ধীরজ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।